| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে গোপনে আফগানদের পুনর্বাসন: তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উন্মোচিত প্রকল্প

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-07-2025 ইং
  • 3577714 বার পঠিত
যুক্তরাজ্যে গোপনে আফগানদের পুনর্বাসন: তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উন্মোচিত প্রকল্প
ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাজ্যে গোপনে আফগানদের পুনর্বাসন

🇬🇧 ব্রিটেনে ‘গোপন পথ’ দিয়ে ৪,৫০০ আফগানকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল: ফাঁস হওয়া তথ্যের ভয়াল ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

২০২২ সালে এক ভয়াবহ তথ্যফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের হয়ে কাজ করা হাজার হাজার আফগান নাগরিক এবং তাদের পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। সেই ঘটনার জের ধরেই চালু হয় এক গোপন পুনর্বাসন প্রকল্প—যার কথা এত দিন আইনি গোপনীয়তায় আড়ালে ছিল।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে এই প্রকল্পের কথা উন্মোচন করেন।

কী ছিল গোপন প্রকল্পের ভেতর?

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৯ হাজার আফগান নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যসম্বলিত একটি স্প্রেডশিট ফাঁস হয়, যারা সবাই ব্রিটেনে পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছিল। এই ফাঁসের কারণে তালেবানের প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা দেখা দেয়।

এরপর ব্রিটেন ‘Afghan Response Route’ নামে একটি গোপন পুনর্বাসন মিশন চালু করে, যার মাধ্যমে:

  • এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ আফগান ও তাদের ৩,৬০০ পরিবারের সদস্য ব্রিটেনে নিয়ে আসা হয়েছে।

  • প্রকল্পের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়েছে।

  • মোট অনুমান করা ব্যয় দাঁড়াবে ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে

সুপার-গ্যাগ অর্ডার: এতদিন যা প্রকাশযোগ্য ছিল না

প্রথমে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার এই প্রকল্পের সব তথ্যের ওপর ‘সুপার-ইনজাংশন’ জারি করে, যার ফলে সংবাদমাধ্যম, সংসদ এমনকি মানবাধিকার সংস্থারাও এই ইস্যুতে মুখ খুলতে পারেনি।

জন হিলি বলেন:

“আমি পার্লামেন্টকে কিছু জানাতে না পারায় গভীর অস্বস্তি বোধ করতাম। তবে তালেবান যেন এই তথ্য হাতে না পায়, সে চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।”

তালেবান পুনরুত্থান এবং আফগান সংকটের পটভূমি

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুল দখল করার পর ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়।

  • বহু আফগান, যারা ব্রিটিশ সেনার হয়ে দোভাষী, অনুবাদক কিংবা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেছিল, তারা তালেবানের টার্গেটে পরিণত হয়।

  • মোট ৩৬,০০০ আফগান যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে।

  • তবে তথ্য ফাঁসের কারণে অনেককে বাঁচাতে হয়নি বাধ্য হয়ে গোপন রুটে সরিয়ে নেওয়া।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও দায়ভার

  • ২০২৩ সালে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ৩.৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

  • এমপিরা মন্তব্য করেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল “নেতৃত্ব ও প্রস্তুতির ভয়াবহ ব্যর্থতা”

  • কাবুলে ফেলে আসা ব্রিটিশ দূতাবাসে সেনা ও আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত নথিপত্র রেখে আসা হয়, যা আরও ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারত।

রাজনৈতিক ঐক্য বনাম লজ্জা

বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা লেবার সরকার এই প্রকল্প বন্ধ করে দিলেও এর পেছনে থাকা মানবিক কারণ অস্বীকার করেননি।
জন হিলি বলেন,

“আমরা দায়িত্ব নিয়েছি সত্য উন্মোচনের। কিন্তু এ রকম একটি তথ্য ফাঁস কখনোই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না।”

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির জেমস কার্টলিজ বলেন,

“এই গোপনীয়তা বজায় রাখা ছিল প্রয়োজন, যেন তালেবান তথ্য পেয়ে নিরীহ মানুষদের ক্ষতি না করতে পারে।”

মূল্যায়ন

বিষয়বিশ্লেষণ
🧾 তথ্য ফাঁসসরকারি কর্মকর্তা ভুলক্রমে গোপন ফাইল পাঠায়
🛡️ পুনর্বাসনগোপন পথেই ৪,৫০০ মানুষ যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেয়েছে
💷 ব্যয়প্রকল্পের খরচ দাঁড়াবে ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি
⚠️ রাজনৈতিক প্রভাবলেবার সরকার স্বচ্ছতা আনলেও সমালোচনার মুখে
🗣️ জনমতমানবিক সহানুভূতি বনাম অভিবাসন সীমাবদ্ধতা প্রশ্ন

প্রতিবেদক :বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency