| বঙ্গাব্দ

আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারাগারে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-07-2025 ইং
  • 5947280 বার পঠিত
আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারাগারে
ছবির ক্যাপশন: সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারাগারে

যাত্রাবাড়ীতে আহাদ হত্যা মামলা: সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারাগারে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৪ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার


ঢাকা:
যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ এ আদেশ দেন।

এদিন রাত ৮টার দিকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেদ হাসান, তাকে আটক রাখার আবেদন জানান। পরে সোয়া ৮টায় তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।

নাটকীয় শুনানি: আলো নিভে মোবাইলের আলোয় আদালত

  • ৮টা ১৬ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন এবং শুনানি শুরু হয়

  • ৮টা ৩২ মিনিটে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়

  • আদালতের কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে শুনানি চালিয়ে যান

  • এরপর শুনানি শেষ করে খায়রুল হককে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক

আদালতের বাইরে বিএনপি-ঘেঁষা আইনজীবীদের বিক্ষোভ

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সাবেক প্রধান বিচারপতির ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেন:

  • ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম

  • সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম

  • জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম

  • সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুক

বিক্ষোভকারীরা ‘দালালের ফাঁসি চাই’, ‘রক্তের বিচার চাই’ সহ নানা স্লোগানে আদালত এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পুলিশ বক্সের সামনে যুবদলকর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদের ওপর গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

এ সময় আহাদের মুখ ও বুকে গুলি লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে আহাদের দুই পায়ে ব্রাশ ফায়ার করেন।

পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আহাদকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মামলা ও আসামিদের তালিকা

ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত আহাদের বাবা মো. আলা উদ্দিন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায়:

  • ৪৬৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়

  • অজ্ঞাত ১,০০০–২,০০০ জনকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়

  • এজাহারনামীয় ৪৪ নম্বর আসামি হিসেবে নাম উঠে আসে এ বি এম খায়রুল হকের

এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার নামও মামলার তালিকায় রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিচার ও রাজনীতি: সংবেদনশীলতার কেন্দ্রে মামলা

সাবেক প্রধান বিচারপতিকে একজন বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে গণ্য করা হলেও এই মামলায় তাকে খুনের ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির সংযোগে স্পর্শকাতর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

একজন আইন বিশ্লেষক বলেন,

“এই মামলা রাজনৈতিকভাবে যতটা বিস্ফোরক, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কীভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম এমন একটি মামলায় যুক্ত হলো।”

তথ্যসংক্ষেপ:

বিষয়বিবরণ
মামলার ধরনহত্যা মামলা (আব্দুল কাইয়ুম আহাদ)
প্রধান আসামিসাবেক ওসি আবুল হোসেন
এজাহারভুক্তসাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (৪৪ নং আসামি)
অন্যান্যশেখ হাসিনাসহ ৪৬৭ জন + ১-২ হাজার অজ্ঞাত আসামি
ঘটনা১৮ জুলাই ২০২৪, যাত্রাবাড়ী
মামলা দায়ের৬ জুলাই ২০২৫
বিচারকমো. ছানাউল্ল্যাহ, অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
সিদ্ধান্তখায়রুল হককে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সূত্র: আদালত রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী, মামলার নথি, রাজনৈতিক দলীয় প্রতিক্রিয়া

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency