প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৫
সূত্র: ওমান শ্রম মন্ত্রণালয়, ফেসবুক পোস্ট (ড. আসিফ নজরুল)
ওমানে কর্মরত অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির সরকার। চলমান বৈধকরণ প্রক্রিয়ার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা এখনও বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করেননি, তারা জরিমানা ছাড়াই বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওমানে নিযুক্ত আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যারা এখনও বৈধতা পাননি, তারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করলে, কোনো জরিমানা ছাড়াই বৈধতার সুযোগ পাবেন।
“যারা এখনো বৈধ নন, তাদের প্রতি অনুরোধ—এই সুযোগ কাজে লাগান। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন,” — লিখেছেন ড. আসিফ নজরুল।
এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী অধিকারকর্মীরা স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কারণ ওমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈধতা দেওয়ার চলমান সময়সীমা ৩১ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ছিল। পরে এটি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মূলত জনস্বার্থে এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ওমানে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এখনো বৈধতা পায়নি।
যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিসা না থাকলে কিংবা অবৈধ অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে ওমান সরকার ভবিষ্যতে কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিতে পারে—যার মধ্যে রয়েছে জরিমানা, ডিপোর্টেশন বা কারাদণ্ডও।
বাংলাদেশ দূতাবাস, ওমানে কর্মরত মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের যত দ্রুত সম্ভব বৈধতার জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রবাসনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য অভিবাসনের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১৯৫০ দশকে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে শুরু করেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় একটি প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
১৯৯০-এর দশকে ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।
২০১০ সালের দিকে ওমান সরকার বৈধতা কর্মসূচি চালু করে, যেখানে হাজার হাজার বাংলাদেশি বৈধতা পান।
২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির সময় বহু বাংলাদেশি চাকরি হারিয়ে অবৈধ অবস্থানে চলে যান।
২০২৫ সালে ওমান সরকার নতুন করে সর্ববৃহৎ বৈধকরণ প্রক্রিয়া চালু করে, যেখানে জরিমানা মওকুফসহ আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই ধারাবাহিকতা থেকে পরিষ্কার, বৈধকরণ শুধু মানবিক নয় বরং অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
ওমানের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ আলোচনার পর এই ধরনের ছাড় আদায় করা বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন এটি।
✅ আবেদনকারীদের দ্রুত ওমানে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
✅ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়েছে।
✅ সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ওমান শ্রম মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সার্কুলার, জুলাই ২০২৫
ফেসবুক পোস্ট – ড. আসিফ নজরুল, ৩১ জুলাই ২০২৫
Dhaka Post, Oman Observer, DeepTonews
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |