| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ গঠনে ঐকমত্য নেই, পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের প্রস্তাব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5922618 বার পঠিত
বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ গঠনে ঐকমত্য নেই, পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের প্রস্তাব
ছবির ক্যাপশন: পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের প্রস্তাব

উচ্চকক্ষ নিয়ে দ্বিধায় বাংলাদেশ: ঐকমত্যের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলো

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর অনলাইন প্রতিবেদন (৩১ জুলাই ২০২৫), পিআইডি এবং অতীতের রাজনৈতিক দলীয় ঘোষণাপত্র

পটভূমি: সংসদীয় ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ কেন?

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় একটি এককক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় কাঠামোর ভিত্তিতে। তবে এর আগে ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমলে ছিল দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ। উচ্চকক্ষ তখন 'সেনেট' নামে পরিচিত ছিল, যা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করত।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কাঠামো এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। এরপর সামরিক শাসনামলে সংসদীয় কাঠামো ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘সংবিধান সংশোধন কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা চালায়, তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১১ সালে ষোড়শ সংশোধনীর সময়ও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

২০২৫ সালের প্রস্তাব: ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে

৩১ জুলাই ২০২৫, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২৩তম দিনের বৈঠকে সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ঘোষণা দেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • উচ্চকক্ষ নিজে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে না।

  • অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিল উচ্চকক্ষে উপস্থাপন হবে।

  • উচ্চকক্ষ সর্বোচ্চ এক মাস বিল আটকে রাখতে পারবে।

  • বিল প্রত্যাখ্যান করলে সেটি সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে পাঠানো হবে।

এই প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষ কার্যত একটি ‘সুপার রিভিউ বোর্ড’ হিসেবে কাজ করবে।


ভিন্নমতের ঝড়: কে কী বলেছে?

বিএনপি ও সমমনা দলসমূহ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন:

“পিআর পদ্ধতি ও উচ্চকক্ষের দায়িত্ব নিয়ে আমাদের স্পষ্ট আপত্তি আছে। লিখিতভাবে তা রাখলে আমরা সই করবো না।”

তার মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিএনপি ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।

বামপন্থী ও ইসলামপন্থী দল

সিপিবি, বাসদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বলেছেন—

“বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় উচ্চকক্ষ অতিরিক্ত ব্যয় ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করবে।”

এটি ১৯৮৬ সালের মতোই একটি পুনরাবৃত্তি, যেখানে বামপন্থীরা সংসদের বিকেন্দ্রীকরণ দাবি করেছিল, তবে অতিরিক্ত স্তরের বিরোধিতা করেছিল।

নাগরিক ঐক্য ও নবীন দলসমূহ

নাগরিক ঐক্য বলেছে—

“যেহেতু উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেই, তাই এটি বাস্তবে গুরুত্বহীন।"

এই অবস্থান ২০১৩ সালের 'সিভিল সোসাইটি গণতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম' এর ঘোষণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে আইন প্রণয়নে জনসম্পৃক্ততার জোর দেওয়া হয়েছিল।

সংবিধান সংশোধন: বিভক্ত মত

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের যেকোনো বিল উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই পাস হবে।

কিন্তু এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন উচ্চকক্ষের ‘দুই-তৃতীয়াংশ’ ভোটে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এ প্রস্তাব পুনরায় ২০০৫ সালে জাতিসংঘের সংবিধান বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশের দিকেই ইঙ্গিত করে—যেখানে বলা হয়েছিল, “সংবিধান সংশোধন যেন সহজলভ্য না হয়।”


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার নেপথ্য বিশ্লেষণ

এই ভিন্নমত ও প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ:

  1. নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ: পিআর পদ্ধতিতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, যা বড় দলগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ।

  2. রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য: উচ্চকক্ষ একটি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

  3. নারী প্রতিনিধি প্রশ্ন: ১০% নারী কোটা উচ্চকক্ষে রাখার প্রস্তাবও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, বিশেষত ইসলামী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে।

অতীতের ছায়া: ১৯৫০–২০২৫ এর প্রেক্ষাপট

সালগুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
1956পূর্ব পাকিস্তানে দ্বিতীয় কক্ষ ‘প্রাদেশিক পরিষদ’ গঠনের চেষ্টা
1972বাংলাদেশ সংবিধান: এককক্ষ বিশিষ্ট সংসদ
1975একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন
1991সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
2000উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন
2011১৫তম ও ১৬তম সংশোধনী বিতর্ক
2025উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে কমিশনের ঐতিহাসিক ঘোষণা
সূত্র
  1. যুগান্তর (৩১ জুলাই ২০২৫), “পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ”

  2. জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভার কার্যবিবরণী, জুলাই ২০২৫


এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ভবিষ্যৎ গঠনে একটি নির্ধারক মাইলফলক হতে পারে—তবে শুধুমাত্র তখনই, যদি দলগুলোর মধ্যে একটি বাস্তব ভিত্তিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency