| বঙ্গাব্দ

জার্মানির যুব কেন্দ্রে গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৬, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী গ্রেফতার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-06-2026 ইং
  • 71655 বার পঠিত
জার্মানির যুব কেন্দ্রে গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৬, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী গ্রেফতার
ছবির ক্যাপশন: জার্মানির যুব কেন্দ্রে গোলাগুলিতে নিহত

হামবুর্গের কাছে মা ও শিশু আবাসন কেন্দ্রে বন্দুকধারীর তাণ্ডব; নিহতদের মধ্যে ৪ নারী, পারিবারিক কলহের জেরে হামলার গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬

উত্তর জার্মানির স্টাডে (Stade) শহরের একটি যুব কল্যাণ কেন্দ্রে (Youth Welfare Facility) চালিত আকস্মিক ও ভয়াবহ এক বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের দিকে ঘটা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর পরই পুলিশ দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে একজন মূল বন্দুকধারী সন্দেহভাজন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪ জন নারী এবং ১ জন পুরুষ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা ছয়-এ পৌঁছায়।

মা ও শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে বন্দুকধারীর তাণ্ডব

জার্মান প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ ও ‘এপি’ জানায়, স্টাডে শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে ডাঙ্কার্সস্ট্রাসে (Dankersstrasse) অবস্থিত একটি বিশেষ কল্যাণ কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই কেন্দ্রটিতে মূলত গর্ভবতী নারী এবং ছোট সন্তানসহ দুস্থ ও অল্পবয়সী মায়েদের জন্য সাময়িক আবাসনের (Mother and Child Shelter) ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সন্দেহভাজন এক পুরুষ এবং এক নারীকে ধাওয়া করে তাদের গাড়ির টায়ারে গুলি করে অবরুদ্ধ করে এবং গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। লুনেবার্গ (Lüneburg) পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জারি করা এক সতর্কবার্তায় জনসাধারণকে ঘটনাস্থলটি ব্যাপকভাবে এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

জঙ্গি হামলা নয়, পারিবারিক ট্র্যাজেডির আশঙ্কা

তদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই রোমহর্ষক ঘটনাটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক চরমপন্থা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বা সংগঠিত অপরাধের হাত নেই। বরং প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী, এটিকে একটি ‘পারিবারিক কলহ বা ট্র্যাজেডি’ (Domestic Violence / Extended Familial Tragedy) হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক ভারী অস্ত্রধারী পুলিশ, বিশেষ কমান্ডো স্কোয়াড এবং একাধিক জরুরি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো সক্রিয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জার্মানি পুলিশ।

উল্লেখ্য, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাসের শান্ত শহর স্টাডে, যা জার্মানির অন্যতম প্রধান শহর হামবুর্গের (Hamburg) পশ্চিমে অবস্থিত। পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিতেও অস্ত্র মালিকানার আইন অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় সেখানে এমন গণ-গোলাগুলির (Mass Shooting) ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তবে এই আকস্মিক হামলা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ঘটা অন্যতম মারাত্মক অপরাধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এক নজরে জার্মানির স্টাডে শহরে গোলাগুলির খতিয়ান (জুন, ২০২৬)

  • মূল ঘটনা: উত্তর জার্মানির স্টাডে শহরের একটি যুব কল্যাণ ও মা-শিশু আবাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলা

  • সর্বশেষ আপডেট: হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জন (৪ জন নারী এবং ২ জন পুরুষ)।

  • পুলিশি অ্যাকশন: ধাওয়া করে গাড়ির চাকা ফুটো করে মূল বন্দুকধারীসহ ২ জনকে গ্রেফতার

  • তদন্তের সূত্র: রাজনৈতিক বা জঙ্গি হামলা নয়, ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক সহিংসতা থাকার জোরালো আশঙ্কা

  • নিরাপত্তা বার্তা: জনসাধারণের জন্য নতুন কোনো হুমকি নেই; তবে তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশ।

স্টাফ রিপোর্টার | 

স্টাডে শহরের ঘটনার পর জার্মান চ্যান্সেলরের বিশেষ বিবৃতি, নিহত ও আহতদের আইডেন্টিটি বা লাইভ মেডিকেল আপডেট, ইউরোপের বর্তমান কঠোর অস্ত্র আইন এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত ও নির্ভুল আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency