| বঙ্গাব্দ

গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর: সারজিস আলমের বার্তায় ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর ইঙ্গিত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-08-2025 ইং
  • 5973774 বার পঠিত
গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর: সারজিস আলমের বার্তায় ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর ইঙ্গিত
ছবির ক্যাপশন: সারজিস আলম

৫ আগস্ট: গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর—আশা, আক্ষেপ ও আগামীর দায়ভার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৫ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক


“৫ আগস্ট আমাদের কাছে এক পরম আমানত” — সারজিস আলম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণ-অভ্যুত্থান কোনো নতুন ঘটনা নয়। ১৯৬৯-এর ছাত্র-গণআন্দোলন যেমন আইয়ুব খানের স্বৈরতন্ত্রকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল আরেকটি স্মরণীয় দিন—যেদিন ছাত্র-জনতা একসঙ্গে ফুঁসে উঠেছিল বলে দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সেই ঘটনার এক বছর।

এ উপলক্ষে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা এবং বিদ্যমান অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন।


“স্বৈরাচার লুকিয়ে গেছে, কিন্তু তার ছায়া রয়ে গেছে”

সারজিস আলম লেখেন:

“স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আপামর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি লুকিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া অসুস্থ, দুর্নীতিপরায়ণ চিন্তা ও চর্চা এখনো সমাজে বিস্তার করে আছে।”

তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রও উঠে আসে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি পর্যায়ে সুশাসনের অভাব এবং প্রতিটি স্তরে অনিয়মই রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ করছে।


“যে প্রজন্ম একনায়কের পতন ঘটাতে পারে, তারা রাষ্ট্র বদলাতেও সক্ষম”

সারজিস আলম স্পষ্টভাবে বলেন:

“যে প্রজন্ম শেখ হাসিনার মতো একজন ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটাতে পারে, সেই প্রজন্মের সামনে কেউই আর পার পেয়ে যাবে না— যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”

এই বক্তব্যে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের উপর তার বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে তাদের অংশগ্রহণের অনিবার্যতা।


অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রতিধ্বনি: ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০০৭

বাংলাদেশের ইতিহাসে গণ-অভ্যুত্থান নতুন কিছু নয়।

  • ১৯৬৯ সালে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

  • ১৯৯০ সালে, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনে ছাত্র ঐক্যজোট, বিএনপি-আওয়ামী লীগ একত্রে ভূমিকা রাখে।

  • ২০০৭ সালে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে সেনা সমর্থিত শাসনের সূচনা হয়, যা আবারো “ব্যাকডোর” শাসনের প্রশ্ন তোলে।

সারজিস আলমের বক্তব্যে সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাই যেন নতুন ভাষায় প্রতিধ্বনিত হয়।


সারজিস আলমের মূল বার্তার বিশ্লেষণ

🔹 দুর্নীতির সামাজিকীকরণ

তিনি বলেন, "রিকশাচালক থেকে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত, যার যতটুকু সামর্থ্য সে ততটুকু ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। আমাদের লড়াইটা শুরু করতে হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে।”

এই মন্তব্যটি আসলে সমাজে দুর্নীতির গভীর প্রসার এবং সিস্টেমিক ব্যর্থতার কথা বলে দেয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, ২০০১ সালের সরকারি দুর্নীতি, কিংবা ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন—সবই ছিল অনিয়মের বিরুদ্ধে জনজাগরণ।

🔹 সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা

সারজিস আলম মনে করেন, “রাজনীতিবিদ, আমলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল সোসাইটি, মিডিয়া, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।”

এখানে তিনি রাজনৈতিক বর্ণালী অতিক্রম করে ‘সামাজিক চুক্তি’ গঠনের আহ্বান রেখেছেন।

🔹 রাষ্ট্র নির্মাণে প্রত্যেকেই পরিপূরক

“কোনো একটি অংশের অনাগ্রহ অন্য অংশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।”

এটি ১৯৭২ সালের সংবিধানে নিহিত “We the people” নীতিরই পুনঃআবৃত্তি।

৫ আগস্ট: এক বছরের প্রতিজ্ঞা ও আগামী দিনের করণীয়

সারজিস আলম বার্তাটি শেষ করেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে:

“৫ আগস্ট আমাদের কাছে এক পরম আমানত। এই আমানতের খেয়ানত না করার প্রতিজ্ঞাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এনে দেবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেটা করব।”

বিশ্লেষণ: পরিণত রাজনীতির সময় এখনই

২০২৫ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—গণ-অভ্যুত্থান বা আন্দোলনের পরে রাষ্ট্র কি সত্যিই বদলায়, না কেবল মুখ বদলায়?
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পেলেও, ৫২ বছর পরও যদি ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে বন্দী থাকে, তবে সেই স্বাধীনতা কতটা কার্যকর?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ২০২৩ সালে বলেছিলেন:

“রাষ্ট্রের আসল মালিক জনগণ। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার জনগণকে শাসন করে, সেবা করে না।”

সারজিস আলমের বার্তা সেই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি যেন।


সূত্র:

  1. ফেসবুক স্ট্যাটাস – সারজিস আলম, ৫ আগস্ট ২০২৫

  2. ইতিহাসের ভাষ্যে গণঅভ্যুত্থান – বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, ২০২৩

  3. ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ‘রাষ্ট্র ও জনগণ’ বক্তৃতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৩

  4. ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০০৭-এর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট – ইতিহাস বিশ্লেষণ, ঢাকা ট্রিবিউন, মার্চ ২০২৪

  5. এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় কমিটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency