অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবৈধ”: ড. ইউনূস ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে ফরহাদ মজহারের কঠোর সমালোচনা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: ফরহাদ মজহারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, বিশ্লেষক সংলাপ
“অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন বৈধ হতে পারে না”—এমন মন্তব্য করেছেন লেখক, চিন্তক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। আজ (৮ আগস্ট) সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ রাজনৈতিক লেখায় তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চলমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন,
“জুলাই ঘোষণাপত্র মূলত এক সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব। এটি গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে সেনা সমর্থিত এক অবৈধ সরকারের হাত ধরে আবারো পুরনো ফ্যাসিস্ট কাঠামোকে বৈধতা দেওয়ার চক্রান্ত।”
ফরহাদ মজহারের ভাষায়, ২০২৪ সালের “অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান” ছিল পুরাতন সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা উৎখাতের জন্য একটি গণসংগ্রাম, যেখানে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। অথচ সেই বিপ্লবের সারাংশকে নস্যাৎ করে ৮ আগস্ট ২০২৫-এ সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার গঠন করা হয়, যেটি শেখ হাসিনার আমলে প্রণীত সংবিধানের শপথ নিয়ে দায়িত্ব নেয়।
তিনি আরও বলেন—
“গণ-অভ্যুত্থান কোনো সংবিধানের ফ্রেমে হয় না, এটি নতুন সংবিধান তৈরির গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতার প্রকাশ। যেহেতু এই সরকার সেই ভিত্তিতে গঠিত নয় এবং পুরনো সংবিধানের সীমায়ই পরিচালিত হচ্ছে, তাই এ সরকার অবৈধ।”
ফরহাদ মজহার জেফরি স্যাকসের এক মন্তব্য তুলে ধরে বলেন,
“২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট জেফরি স্যাকস বলেন—যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপেই বাংলাদেশে কেবলমাত্র 'সরকার বদল' (Regime Change) হয়েছে। অর্থাৎ, এক উপদেষ্টা সরকারের আড়ালে আরেকটি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকার কার্যকর।”
তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার আদতে এস আলম ও লুটেরা ব্যবসায়ী চক্রের স্বার্থ রক্ষা করছে, এবং ড. ইউনূস তাঁদের সঙ্গে আপস করে নিজেই ফাঁদে পড়েছেন।
ফরহাদ মজহার দাবি করেন, বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন, এমনকি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্বই শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধানের ফ্রেমে গঠিত। অতএব এই কাঠামোর অধীনে কোনো নির্বাচন বা সরকারই গণতান্ত্রিক নয়। তিনি বলেন—
“নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণপরিষদ ছাড়া ড. ইউনূসের সামনে কোনো বৈধ পথ খোলা নেই। ফ্যাসিস্ট সংবিধান বাতিল করতেই হবে।”
বাংলাদেশের ইতিহাসে অসাংবিধানিক সরকার গঠন এবং গণ-আন্দোলনের পর সেনা সমর্থিত প্রশাসনের ইতিহাস নতুন নয়—
১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে সামরিক অভ্যুত্থান।
১৯৯৬: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৭: ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকার একটি জেনারেল নির্বাচন পিছিয়ে দেয় এবং সংস্কারের নামে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালায়।
২০২৪: কথিত ‘গণ-অভ্যুত্থান’ পরবর্তী সরকার আবারো বিতর্কের জন্ম দেয়, যেখানে একপক্ষ বলছে এটি জনতার বিজয়, অন্যপক্ষ বলছে ‘পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাস’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মনজুরুল আলম পান্না বলেন,
“ফরহাদ মজহারের মতাদর্শিক অবস্থান বরাবরই ব্যতিক্রমী। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বকে—Constituent Power—মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে আলোচনায় এনেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তা পুনরায় বিশ্লেষণের দাবি রাখে।”
ড. ইউনূস ও সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শুধু কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈধতা ও পুনর্গঠনের প্রশ্নে এক গভীর মতাদর্শিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।
ফরহাদ মজহারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (৮ আগস্ট, ২০২৫)
জেফরি স্যাকসের বিবৃতি, ১৮ আগস্ট ২০২৪
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিশ্লেষক ড. মনজুরুল আলম পান্নার প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |