| বঙ্গাব্দ

বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ড: ভারতীয়দের পর্যটন ও শিক্ষা খাত থেকে সরে যাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-08-2025 ইং
  • 3437543 বার পঠিত
বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ড: ভারতীয়দের পর্যটন ও শিক্ষা খাত থেকে সরে যাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতি | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ড

‘বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ডে বড় ধাক্কা: পর্যটন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

ঢাকা: তুরস্কের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া ‘বয়কট তুরস্ক’ ট্রেন্ড এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে সমর্থন, ভারতকে ড্রোন দেওয়া এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। এর ফলস্বরূপ, পর্যটন, শিক্ষা এবং বিমান পরিবহন—এসব গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে ভারত এখন তুরস্ক থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে, যা তুরস্কের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানছে।

পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব

এই বয়কটের প্রভাব সবার আগে পড়েছে পর্যটন শিল্পে। সরকারি ও বেসরকারি তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালের জুন মাসে ভারত থেকে ৩৮,৩০৭ জন পর্যটক তুরস্কে গিয়েছিলেন। এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে এই সংখ্যা প্রায় ৩৭% কমে ২৪,২৫০ জনে দাঁড়িয়েছে

  • বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি: এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত একের পর এক বুকিং বাতিল করা হয়েছে। কলকাতার পুজো মৌসুমে শুধু এই শহর থেকেই অন্তত ১,৫০০টি ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। এর ফলে তুরস্কের সম্ভাব্য আয় কমেছে ৬০ থেকে ৭৫ কোটি টাকা। উত্তর প্রদেশের কানপুরে কয়েকটি বড় গ্রুপ ট্যুর বাতিলের ফলে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

  • হাই-এন্ড সেগমেন্টে বড় আঘাত: যদিও ভারতীয় পর্যটকদের সংখ্যা তুর্কি পর্যটন আয়ের মাত্র ০.৬%, কিন্তু বিয়েবাড়ি, ডেস্টিনেশন শুট ও বিলাসবহুল ভ্রমণে ভারতীয়দের খরচ অনেক বেশি। এই ‘হাই-এন্ড’ সেগমেন্টে হাজার হাজার বুকিং বাতিল হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি চোখে পড়ার মতো।

  • ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: ২০১৯ সালে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২.৩ লাখ, যা ২০২৪ সালে ২.৭ লাখে পৌঁছেছিল। কিন্তু চলতি বছরেই প্রায় ৮৫ হাজার কম পর্যটক তুরস্কে গেছেন। এই ধারা চলতে থাকলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

শিক্ষা ও বিমান খাতেও কঠোর পদক্ষেপ

পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও ভারত-তুরস্কের সম্পর্ক শীতল হচ্ছে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের কয়েকটি প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় তুর্কি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা সমঝোতা ও ছাত্রবিনিময় কর্মসূচি ‘স্থগিত/বাতিল’ করেছে। এর কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় স্বার্থকে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীর স্কলারশিপ, ভিসা ও গাইডেন্স প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে কঠোর বার্তা এসেছে বিমান পরিবহন খাত থেকে। একাধিক ভারতীয় বিমানবন্দরে কাজ করা তুর্কি মালিকানাধীন গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সংস্থার নিরাপত্তা অনুমোদন খারিজ করা হয়েছে। ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মনে করছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সময়ে তুর্কি অংশীদারির ওপর নির্ভরশীল কিছু লিজ বা কোডশেয়ার চুক্তিও চাপের মুখে পড়েছে।

শিল্পমহল বলছে, ভারত তার বৃহৎ ভোক্তা ও যাত্রীশক্তিকে একটি ‘নীরব অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি তুরস্কের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, যেসব দেশের অবস্থান ভারতের মূল স্বার্থের বিরুদ্ধে, ভারত সেসব দেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

সূত্র: সরকারি ও শিল্প সংস্থাগুলোর তথ্য, ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ ডেটা

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency