| বঙ্গাব্দ

৪ আগস্ট ড. ইউনূসকে নতুন সরকারপ্রধানের প্রস্তাব: নাহিদ ইসলাম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-09-2025 ইং
  • 3233037 বার পঠিত
৪ আগস্ট ড. ইউনূসকে নতুন সরকারপ্রধানের প্রস্তাব: নাহিদ ইসলাম
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলাম

৪ আগস্ট নতুন সরকার গঠনের প্রস্তাব ইউনূসকে দেওয়া হয়েছিল: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নতুন সরকারের প্রস্তাব প্রসঙ্গ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, গত ৪ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্য দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন:

“তেসরা আগস্ট যেহেতু সরকার পতনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একদফা, ফলে এই সরকারকে আমরা আর মেনে নিচ্ছি না। আমাদের নতুন সরকার প্রধানের জন্য তখন থেকেই পরিকল্পনা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা প্রাথমিকভাবে ড. ইউনূসকে ভেবেছিলাম, অন্য অনেকের সঙ্গেও পরামর্শ করেছিলাম। এজন্য আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি।”

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

সকাল সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন—

  • গত বছরের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ছাত্রদের “রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি” আখ্যা দেন এবং কোটা পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেন।

  • এই বক্তব্যের পর সারা দেশে ছাত্রসমাজ উত্তাল হয়ে ওঠে এবং রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে।

  • তিনি দাবি করেন, এ ধরনের বক্তব্য সরকার সব সময় আন্দোলনের ন্যায্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

আন্দোলনের চাপ ও প্রতিরোধ

নাহিদ ইসলাম আরও জানান:

  • ১৭ জুলাই ডিজিএফআই আন্দোলন প্রত্যাহার ও সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একই সময়ে শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং সারাদেশে বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করা হয়।

  • ১৭ জুলাই রাতেই তারা দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর ফলে ১৮ জুলাই সারাদেশের ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে, বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

  • আন্দোলনকারীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, গ্রেফতার এড়াতে নেতারা আত্মগোপনে যান।

  • ১৮ জুলাই সারা দেশে বহু আহত ও নিহত হন; রাতেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • ১৯ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গুলিতে আরও অনেকে নিহত ও আহত হন।

বিশ্লেষণ

নাহিদ ইসলামের এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ছিল না, বরং তা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়।

  • ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আনতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

  • ছাত্র আন্দোলনের ওপর সরকারের কঠোর দমননীতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের বিস্তার ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ইন্টারনেট বন্ধ, মামলার হুমকি, নির্বিচারে গুলি—এসব ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, আন্দোলন তখন কেবল ছাত্র রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।


সূত্র

১) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ কার্যক্রম (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
২) নাহিদ ইসলামের সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য, এনসিপি অফিস, ঢাকা
৩) গণমাধ্যম প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, যুগান্তর (জুলাই অভ্যুত্থান ও নতুন সরকার প্রস্তাব প্রসঙ্গ)

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency