মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’: বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতায় ৮ দফা পরামর্শ, প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে ‘ডাইরেক্ট ডিল’ স্থগিতের প্রশংসা
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে আটটি নির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। শুক্রবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের Fiscal Transparency Report (FTR)–এ বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী সরকারের প্রণীত বাজেট কাঠামো বহাল রেখেও স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে সব ধরনের ক্রয়/চুক্তি প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করার পদক্ষেপ—এবং পূর্ববর্তী সরকারের সরাসরি দর–কষাকষিভিত্তিক (direct negotiation) সব প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী বছরে (২০২4 সালের রিপোর্টে) বাংলাদেশের বাজেট–স্বচ্ছতায় কিছু ঘাটতি ছিল—বিশেষ করে বছরশেষের হিসাব যুক্তিসংগত সময়ে না ছাপা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাজেট নথি প্রস্তুত না হওয়া, নির্বাহী কার্যালয়ের ব্যয় আলাদা না দেখানো ইত্যাদি। ২০২৫ সালের রিপোর্টে এসব ক্ষেত্রে উন্নতির পথনির্দেশ হিসেবে আট দফা সুপারিশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বছরশেষের হিসাব (End-of-Year Report) যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা।
বাজেট নথি (executive proposal, enacted budget, in-year reports ইত্যাদি) আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুত করা।
নির্বাহী কার্যালয়ের ব্যয় (Executive offices’ expenditures) স্বতন্ত্রভাবে দেখানো।
সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বাজেটে প্রকাশ করা—রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক প্রভাবসহ।
সর্বোচ্চ নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের (SAI) স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পূর্ণাঙ্গ বাজেট–তথ্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন সময়মতো প্রকাশ করা—সুপারিশ ও বিস্তারিত অনুসন্ধানসহ।
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ–সংক্রান্ত চুক্তির মূল তথ্য প্রকাশ করা (কনট্রাক্ট টার্মস, পেমেন্ট, লাইসেন্সিং ইত্যাদি)।
সরকারি ক্রয় (Public Procurement)–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা।
রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে পূর্ববর্তী সব direct negotiation স্থগিত করে উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপকে স্বচ্ছতা জোরদারের ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখেছে।
২০২৪ সালের FTR–এ বাংলাদেশকে ‘ন্যূনতম মান পূরণে ব্যর্থ’ তালিকায় রাখা হয়েছিল; সেখানে বছরশেষের হিসাব দেরিতে প্রকাশ, বাজেট ডকুমেন্টের মানদণ্ড, নির্বাহী ব্যয়ের স্বতন্ত্র উপস্থাপন—এসব ঘাটতি চিহ্নিত ছিল। চলতি বছরের রিপোর্টে কিছু অগ্রগতি ও চলমান সংস্কারের প্রশংসা থাকলেও, সুশাসন–কেন্দ্রিক তথ্যপ্রকাশ, সময়মতো অডিট এবং বাজেট–ডেটার সম্পূর্ণতা—এসব ক্ষেত্রে স্পষ্ট উন্নতি দেখতে বলা হয়েছে।
বছরশেষের হিসাব দ্রুত ছাপা ও অডিট প্রকাশ মানে নাগরিক, সংসদ ও বিনিয়োগকারী—সবার সামনে বাস্তব পারফরম্যান্স হাজির করা; এতে ঘাটতি আড়াল করা কঠিন হয় এবং রিসোর্স অ্যালোকেশনের মান বাড়ে।
নির্বাহী ব্যয় আলাদা দেখানো ও SOE/নন–বাজেটারি কার্যক্রম বাজেটে সমন্বিত করা হলে ফিসকাল রিস্ক স্পষ্ট হয়—আইএমএফ/আইডিএ–ধাঁচের প্রোগ্রামেও এটি মানদণ্ড।
ওপেন প্রোকিউরমেন্ট ও কনট্রাক্ট ডিসক্লোজার দুর্নীতির সুযোগ কমায়; বিশেষ করে জ্বালানি–খনিজের মতো খাতে ডাইরেক্ট ডিল স্থগিত করা ভ্যালু–ফর–মানি নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।
SAI স্বাধীনতা ও ডেটা–অ্যাকসেস বাড়ানো না গেলে তালিকা–ভিত্তিক সুপারিশ বাস্তবায়ন টেকসই হয় না—এটি অডিট–ফলোআপ ও সংসদীয় কমিটিকে কার্যকর করে।
U.S. Department of State—2025 Fiscal Transparency Report (Bangladesh): বাংলাদেশের জন্য সুপারিশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে উন্মুক্ত প্রোকিউরমেন্টের উল্লেখ।
Dhaka Tribune / UNB / The Business Standard: ২০২৫ FTR–এ বাংলাদেশের অগ্রগতি ও ‘ডাইরেক্ট নেগোশিয়েশন স্থগিত’–সংক্রান্ত খবর।
U.S. Department of State—2024 Fiscal Transparency Report (Bangladesh): আগের বছরের ঘাটতি, তুলনামূলক প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |