| বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়: বিএনপির ফজলুর রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-09-2025 ইং
  • 3213954 বার পঠিত
ড. ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়: বিএনপির ফজলুর রহমান
ছবির ক্যাপশন: বিএনপির ফজলুর রহমান

“ড. ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না: বিএনপির ফজলুর রহমান”

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন—“এখন নির্বাচন হলে ডাকসুর মতো সাজানো ফল হবে।” বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তর মাল্টিমিডিয়াকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ডাকসুর দৃষ্টান্ত টেনে নির্বাচন প্রসঙ্গ

ফজলুর রহমান বলেন:

“এই ইলেকশনটা হলে পরে ডাকসুতে যেরকম ডাইস বানাইছিল, এরকম ডাইস বানিয়ে রেখে দেবে। জামায়াতের পক্ষের জন্য ডাইস বানানো হয়েছে সব জায়গাতেই। রিটার্নিং অফিসারদেরকেও নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ইতিমধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ নেই।

ইউনূস সরকারের সমালোচনা

তিনি বলেন:

“ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ, ইউনূসের একটা রাজনৈতিক দল আছে। মাথায় হাত দিয়ে বলে ‘তুই হবি প্রধানমন্ত্রী’। যে মেম্বার হতে পারবে না, তাকেও প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়। আবার ইউনূস বানায় বললে একটু বেশি বলা হয়ে যাবে।”

ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন—যা রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রমাণ।

জামায়াত প্রসঙ্গে মন্তব্য

ইউনূস ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন:

“জামায়াতের সঙ্গে হলো রাতের সম্পর্ক। রাতের সম্পর্কটা বড় খারাপ। দিনে আর রাতে বন্ধুত্ব ভিন্ন হয়। ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতের যে সম্পর্ক, সেটা দিনের আলাদা আর রাতের আলাদা।”

তার দাবি, এ ধরনের অস্বচ্ছ সম্পর্ক ভবিষ্যতের নির্বাচনকে আরও অবিশ্বস্ত করে তুলছে।

ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়

ফজলুর রহমান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হওয়ার যে আলোচনা চলছে, সেটি তিনি বিশ্বাস করেন না।

“ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশন হবে—এটা আমি নব্বই পার্সেন্ট বিশ্বাস করি না। আমার দল বিশ্বাস করে, কিন্তু আমি মনে করি না ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশন হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

তিনি বলেন:

“আমি ইউনূসের অধীনে কোনো নির্বাচন চাই না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে তিন মাসের জন্য। ওই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আইন অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে অ্যাডভাইজাররা নির্বাচন করবে।”


বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে বারবার অসন্তুষ্টি, অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শুরু করে,

  • ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন,

  • ২০০৬–২০০৮ সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—সব কিছুর মূলে ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনের পরও প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নেয়নি, ফলে বৈধতা নিয়ে বিতর্ক থেকে যায়। ২০২৫ সালে এসে বিএনপির স্থগিত হওয়া নেতার এই মন্তব্য নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির প্রতিধ্বনি শোনাচ্ছে।


সূত্র

  1. দৈনিক যুগান্তর মাল্টিমিডিয়া – ফজলুর রহমান সাক্ষাৎকার

  2. বাংলাদেশ প্রতিদিন – “বাংলাদেশ রাজনীতি ১৯৫০–২০২৫: বিশ্লেষণ” প্রতিবেদন

  3. বিবিসি বাংলা – “বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস ও বিতর্ক”

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency