| বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের শারদীয় দুর্গাপূজা বার্তা: সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আহ্বান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-09-2025 ইং
  • 3191515 বার পঠিত
তারেক রহমানের শারদীয় দুর্গাপূজা বার্তা: সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আহ্বান
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

শারদীয় দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন,

“বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। এই উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”


ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আবহমান কালের সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি হলো ভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস।
তিনি উল্লেখ করেন,

  • “আমাদের সংবিধান সকল নাগরিকের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে প্রত্যেকে সমান অধিকার ভোগ করবে।”

  • “আমাদের প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিমকে নির্যাতন করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার বিরুদ্ধে লড়ব।”


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশ্চয়তা

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, শারদীয় উৎসবকে ঘিরে কেউ যেন কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেন,

“আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে নিশ্চিন্তে সারাদেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিন।”


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১–২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নটি সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-এ সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নেয়।

  • ১৯৯০-এর দশকে বিভিন্ন উৎসবে আন্তঃসম্প্রদায়িক সহাবস্থান রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হয়।

  • ২০১০-এর দশকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও সামাজিক পর্যায়ে পূজার অনুষ্ঠান ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।

  • ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সূচনা-এর পর রাজনৈতিক দলগুলো পুনরায় সামাজিক সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি নিয়ে সরব হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের বার্তা কেবল শুভেচ্ছা নয়, বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ বলেও বিশ্লেষকদের মত।


বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ—
১. অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ইতিবাচক সমন্বয় – সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে বিএনপি সরকার ও নাগরিক সমাজের অবস্থানের সাথে তাল মেলাচ্ছে।
২. ভোট রাজনীতিতে কৌশল – সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা স্পষ্ট।
৩. আন্তর্জাতিক বার্তা – পশ্চিমা দাতা ও কূটনৈতিক মহলে বিএনপি নিজেকে গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।


সূত্র

১. যুগান্তর, “শারদীয় দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তারেক রহমানের বার্তা”, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
২. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, “ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি”, ২০২৩।
৩. বিবিসি বাংলা, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘু রাজনীতি”, ২০২২।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency