“গাজা যুদ্ধ ইসরাইলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধ্বংস করেছে” — মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গাজায় চলমান যুদ্ধ ইসরাইলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে “মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত” করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রোববার (৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো “Face the Nation”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন—
“আপনি যুদ্ধকে ন্যায্য বলুন বা না বলুন, এই সংঘাত ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না।”
রুবিওর এই মন্তব্যকে মার্কিন রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ইসরাইল–ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি দুই দিকেই চাপ বাড়ছে।
রুবিও বলেন,
“যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা— এমনকি ইউরোপের অনেক দেশ এখন প্রকাশ্যেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। আমরা চাই বা না চাই, বৈশ্বিক জনমত এখন ক্রমেই ইসরাইলের বিপক্ষে যাচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় ৬৭ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলবিরোধী মনোভাবকে ব্যাপকভাবে উসকে দিয়েছে।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সে একাধিক পার্লামেন্ট সদস্য প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে, যা পূর্বে তারা করেনি।
লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু দেশ ইতোমধ্যেই ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে বা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে।
রুবিওর সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত “বন্দিবিনিময় পরিকল্পনা” নিয়ে ইসরাইল ও হামাস প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়।
পরবর্তীতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (IDF) ঘোষণা দেয় যে, গাজায় তারা “আক্রমণাত্মক অভিযান আপাতত স্থগিত” রাখবে।
রুবিও ব্যাখ্যা করেন,
“যখন বন্দিবিনিময়ের পরিকল্পনা করা হয়, তখন সবাই জানে— বোমাবর্ষণের মধ্যে সেটা সম্ভব নয়। তাই হামলা বন্ধ করতেই হয়েছে।”
তবে হামাস এখনও অস্ত্র জমা দিতে রাজি হয়নি, আর ইসরাইলও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি প্রকাশ করেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ ইতিমধ্যেই ৬৭,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু ও প্রায় ২ লাখ আহতের কারণ হয়েছে।
জাতিসংঘের ভাষায় এটি “২১শ শতকের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”
গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সেবায় চরম সংকট চলছে।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো “যুদ্ধাপরাধ তদন্ত”-এর আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরাইলপন্থী অবস্থান নিয়ে বিরোধ বাড়ছে।
ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সিনেটর ইসরাইলের “অতিরিক্ত সামরিক প্রতিক্রিয়া” নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদিও বলেন,
“যুদ্ধ শেষ হবে কেবল তখনই, যখন হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হবে।”
তবে আন্তর্জাতিক চাপে এবং বন্দিবিনিময় চুক্তির কারণে ইসরাইল সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখলেও “গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার” নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ভূরাজনৈতিক প্রভাব:
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানও চাপে পড়েছে।
সৌদি আরব, কাতার ও মিসরের মতো দেশগুলো ওয়াশিংটনের ভূমিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইসরাইলের ভাবমূর্তি:
যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ১৯৮২ সালের লেবানন আক্রমণের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে পশ্চিমা তরুণ প্রজন্ম ও একাডেমিক মহলে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” আন্দোলন দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি:
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ও মুসলিম ভোটারদের ভারসাম্য রক্ষায় ওয়াশিংটন প্রশাসন কঠিন কূটনৈতিক অবস্থানে পড়েছে।
১৯৪৮: ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা; ফিলিস্তিনের প্রথম বাস্তুচ্যুতি।
১৯৬7: ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইল গাজা ও পশ্চিম তীর দখল করে।
১৯৮৭ ও ২০০০: প্রথম ও দ্বিতীয় ইন্তিফাদা আন্দোলন।
২০০৬: হামাস গাজা উপত্যকায় ক্ষমতা নেয়।
২০১৪: গাজায় ৫০ দিনের যুদ্ধ, ২২০০ মৃত্যুর রেকর্ড।
২০২৩–২০২৫: চলমান হামাস–ইসরাইল সংঘাতে মৃত্যু ৬৭,০০০ ছাড়ায়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |