প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র আবারও টাইলেনল (Tylenol) নামক ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, অল্প বয়সে খৎনা করা ছেলেশিশুদের মধ্যে অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়, এবং এর মূল কারণ হচ্ছে খৎনার পর টাইলেনল ব্যবহার।
এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃহৎ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
৯ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেনেডি বলেন,
“দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ছেলেশিশুর খৎনা করা হয়, তাদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার হার দ্বিগুণ। এর প্রধান কারণ সম্ভবত খৎনার পর তাদের শরীরে ব্যথানাশক টাইলেনল দেওয়া হয়।”
কেনেডির এই বক্তব্য প্রথম প্রকাশ করে Associated Press (AP), যা দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর, কেনেডি ও ট্রাম্প এক যৌথ ঘোষণায় গর্ভবতী নারীদের টাইলেনল সেবন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন, ওষুধটির সক্রিয় উপাদান অ্যাসিটামিনোফেন (Acetaminophen) গর্ভস্থ শিশুর স্নায়বিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা এই দাবিকে “বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত ও অতিরঞ্জিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
টাইলেনল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান Kenvue (জনসন অ্যান্ড জনসন-এর সহযোগী) এক বিবৃতিতে জানায়,
“আমরা বর্তমান গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে অ্যাসিটামিনোফেন গর্ভাবস্থায় বা খৎনার পর অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়।”
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সোসাইটি ফর ম্যাটার্নাল-ফিটাল মেডিসিন এবং আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস (ACOG) ৫ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে বলেছে,
“অ্যাসিটামিনোফেন গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধগুলোর একটি; সঠিক ডোজে ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি নেই।”
অন্যদিকে, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) শুধুমাত্র ২০ সপ্তাহ পর থেকে আইবুপ্রোফেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে; টাইলেনল নিয়ে কোনো সরকারি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেনেডির বক্তব্যে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন,
“আপনি যদি গর্ভবতী হন, টাইলেনল খাবেন না। আর শিশু জন্মের পর তাকেও টাইলেনল দেবেন না।”
ট্রাম্প ও কেনেডি দুজনেই বলছেন, তারা এই প্রচারণা চালাচ্ছেন “প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সচেতনতা” হিসেবে, কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থে নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের এমন পরামর্শ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
যদিও কেনেডি খৎনাকে “ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া” বলেছেন, চিকিৎসা-বিজ্ঞানে অনেক স্বীকৃত উপকারিতাও রয়েছে—
আফ্রিকায় র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে দেখা গেছে, খৎনা করা পুরুষদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি ৫১–৬০% পর্যন্ত কমে।
এইচএসভি-২ (Genital Herpes) সংক্রমণ এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)-এর ঝুঁকি নবজাতক ছেলেদের মধ্যে প্রায় ১০ গুণ কমে যায়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খৎনা পেনাইল ক্যানসার প্রতিরোধেও আংশিক ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDC) এখনও খৎনা সম্পর্কে ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেনেডির এই অবস্থান কেবল স্বাস্থ্যনীতি নয়—এটি এখন রাজনৈতিক কৌশলও বটে।
রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টি-ভ্যাকসিন ও বিকল্প চিকিৎসা আন্দোলনের পরিচিত মুখ। স্বাস্থ্য সচেতন ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পেতে তিনি ও ট্রাম্প “টাইলেনল বিতর্ক” ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করছে Washington Post ও Politico।
স্বাস্থ্য নীতি বিশেষজ্ঞ ড. লিসা কার্লসন (Emory University) বলেন,
“যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে, তখন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। টাইলেনল বিতর্ক এখন চিকিৎসা নয়, রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।”
রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের “খৎনা ও টাইলেনল–সংক্রান্ত” বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান বনাম রাজনীতি বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে।
একদিকে চিকিৎসা সম্প্রদায় বলছে—এ দাবির কোনো প্রমাণ নেই,
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে—এটি “অভিভাবক ও জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ।”
এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের FDA বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) কি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণা বা সতর্কতা ঘোষণা করে কি না।
Associated Press (AP) — “US Health Secretary Robert F. Kennedy Jr. warns Tylenol use after circumcision may double autism risk”, ৯ অক্টোবর ২০২৫
Reuters Health — “Kenvue, FDA dismiss Kennedy’s Tylenol–autism link as unproven”, ১০ অক্টোবর ২০২৫
The Washington Post — “Trump, Kennedy fuel Tylenol controversy amid election-year health politics”, ১১ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |