| বঙ্গাব্দ

আসন সমঝোতা ফাইনাল রাউন্ড: মিত্রদের দাবিপত্র, বিএনপির ৪০–৫০ সিট–কৌশল ও ২০১৮–র অভিজ্ঞতা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-10-2025 ইং
  • 3033306 বার পঠিত
আসন সমঝোতা ফাইনাল রাউন্ড: মিত্রদের দাবিপত্র, বিএনপির ৪০–৫০ সিট–কৌশল ও ২০১৮–র অভিজ্ঞতা
ছবির ক্যাপশন: আসন সমঝোতা ফাইনাল রাউন্ড

আসন সমঝোতা চূড়ান্তের পথে: মিত্রদের দাবিপত্রে চাপ, বিএনপির লক্ষ্য জয়ের সম্ভাবনাময় আসনেই ছাড়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি তুঙ্গে। যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন মিত্রদল নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা জমা দিয়েছে; কে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—তা নিয়ে চলছে কৌশলগত হিসাব-নিকাশ। দল–জোট–সংগঠনের সূত্র বলছে, অনেক মিত্রই বিপুলসংখ্যক আসন চাইছে; তবে বিএনপি আস্থা রাখছে সেই আসনগুলোকেই, যেখানে মিত্রদের বাস্তব জয়ের সম্ভাবনা আছে। সাম্প্রতিক গণমাধ্যম–রিপোর্টে দেখা যায়, বিএনপি সর্বোচ্চ ৪০–৫০টির মধ্যে মিত্রদের জন্য আসন ছাড়ে যেতে পারে—এমনি ইঙ্গিত মিলেছে দলীয় প্রস্তুতি–সংবাদ থেকে। 

কী চাচ্ছে কে: মিত্রদের প্রার্থীপত্র ও বিএনপির যাচাই

দলীয় ও জোট–সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ২০০–এর বেশি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ—প্রায় দেড়শর কাছাকাছি আসনে প্রার্থীর নাম দিয়েছে বলে জানা যায়; ১২–দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, বিএনপি(বিজেপি), গণফোরাম, লেবার পার্টি, এনডিএমসহ আরও কয়েকটি দলও নিজেদের শক্ত ঘাঁটি–সহ সম্ভাব্য আসনের তালিকা দিয়েছে—কখনো দলীয় কার্যালয়ে, কখনো লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতে।
বিএনপি–হাইকমান্ড একই সঙ্গে একাধিক জরিপ, স্থানীয় কমিটি ও ফিল্ড–রিপোর্ট যাচাই করছে—কোন আসনে মিত্রের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, কোন আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে—এসব সূচক মিলিয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। এদিকে, কয়েকটি আসনে বিএনপির নিজস্ব মনোনয়ন চূড়ান্ত করাও কঠিন হচ্ছে—অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রাউন্ড–রিপোর্টের তারতম্যের কারণে। 

২০১৮–র অভিজ্ঞতা: কতটা ছাড় দিয়েছিল বিএনপি

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মিত্রদের মোট ৫৮টি আসন ছেড়েছিল; এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর জন্য ২২টি—বলা হয়েছে সমকালীন রিপোর্টে। অন্য অংশ মিলে যায় ওক্যালফ্রন্ট ও ২০–দলীয় জোটের সঙ্গীদের কাছে। এই ইতিহাসই বর্তমান দরকষাকষির ‘রেফারেন্স পয়েন্ট’। 

এবার জামায়াত কীভাবে সমীকরণে

২০২৪–এর পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে মূলধারার গণমাধ্যমে। ফলে ২০১৮–র মতো কোটার বড় অংশ সরাসরি জামায়াতের দিকে যাবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই সংশ্লিষ্টদের ধারণা। 

কেন ৪০–৫০–এই ‘ক্যাপ’? সাম্প্রতিক ৩টি বাস্তবতা

  1. সিট ডিলিমিটেশন ও মানচিত্র–পুনর্বিন্যাস: ইসির খসড়া অনুযায়ী ১৪ জেলায় ৩৯টি আসনের নতুন সীমানা প্রস্তাব হয়েছে—পুরনো ‘সেইফ সিট’–এর অনেকে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে পারে। 

  2. প্রার্থী–ফাইনালাইজেশনে জটিলতা: অন্তত প্রায় অর্ধেক আসনে শক্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ—গ্রাউন্ড–রিপোর্টে হেরফের থাকায়। ফলে মিত্রদের ক্ষেত্রেও ‘সেফটি–ফার্স্ট’ নীতি। 

  3. মাঠের বাস্তবতা বনাম ‘উইশ–লিস্ট’: মিত্রদের চাহিদা বেশি হলেও মোটামুটি ৫০–এর নিচে কোনো একটি সংখ্যায় থামার ইঙ্গিত মিলছে—কারণ বিএনপির নিজেদেরও বহু আসনে প্রতিযোগিতামূলক প্রার্থী প্রস্তুত। 

‘কে কী বলেছে’: সাম্প্রতিক উচ্চারণ

  • তারেক রহমান (বিবিসি বাংলায় সাক্ষাৎকার): দেশে ফিরে আসার সময় এসেছে, সামনে নির্বাচনে তিনি জনগণের পাশে থাকতে চান—এমন বার্তা দিয়ে তিনি জোট–রাজনীতির ধারাবাহিকতা ও সংগঠন–পুনর্গঠনের কথাও তুলেছেন। 

  • জোট–অংশীদারদের অনুযোগ: মিত্রদের কিছু অভিযোগ—বিএনপির নেতারা এমন আসনেও প্রচার চালাচ্ছেন যেখানে মিত্ররা প্রস্তুতি নিচ্ছে—যা দরকষাকষিকে কঠিন করছে। 

কীভাবে হবে চূড়ান্ত

প্রক্রিয়াটি সাধারণত তিন ধাপে এগোয়—
(ক) মিত্রদের দাবিপত্র গ্রহণ ও ফিল্টারিং, (খ) আসনভিত্তিক জরিপ–ডেটা মিলিয়ে শর্ট–লিস্ট, (গ) তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন। ২০১৮–তে ঘোষণার শেষ সপ্তাহেই দু–একটি আসনে চূড়ান্ত তালিকা বদল হয়েছিল; এবারও শেষ মুহূর্তে সামান্য রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

প্রেক্ষাপটের ইতিহাস: ১৯৫৪–২০১৮—বাংলাদেশে ‘জোট–সমীকরণ’ ও আসন–রাজনীতি

  • ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্টের অভ্যুদয়: বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গড়া যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায়—গণ–সমর্থনভিত্তিক ইস্যু–কোঅ্যালিশন রাজনীতির সূত্রপাত। 

  • ১৯৯৬ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা: নির্বাচনকালীন আস্থার সংকট কাটাতে ত্রয়োদশ সংশোধনী—পরে বিলুপ্ত হলেও জোট–সমীকরণে এর প্রভাব স্থায়ী। 

  • ২০০৮ ও ২০১৮: বড় জোট বনাম প্রতিদ্বন্দ্বী জোট—উভয় নির্বাচনেরই সিট–শেয়ারিং ছিল প্রধান কৌশলগত এজেন্ডা; ২০১৮–তে বিএনপি–অধীন জোটে ৫৮ আসন মিত্রদের মধ্যে বণ্টনের নজির আছে। 

বিশ্লেষণ: ‘জয়ের সম্ভাবনা’–কেন্দ্রিক নকশাই কেন কার্যকর

বাংলাদেশে একক আসনভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (FPTP)–ব্যবস্থায় ভোট লোকাল পারফরম্যান্স ও প্রার্থীর পরিচিতি–নেটওয়ার্ক–এ খুব নির্ভরশীল। ফলে জোট–সমীকরণে ‘সংখ্যার খোঁপা’ নয়, বরং ওয়িনেবিলিটি–ইন্ডেক্স–ভিত্তিক আসন ছাড়াই ফল আনে—এমন প্রমাণ ২০০৮, ২০১৮–সহ বহু নির্বাচনে। বর্তমান দরকষাকষিতে বিএনপির যে নীতি—জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা আছে এমন আসনেই মিত্রকে প্রাধান্য—তা মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে প্রার্থী–ফাইনালাইজেশনের জটিলতা, নতুন ডিলিমিটেশন ও জোট–অংশীদারদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—এই তিন ফ্যাক্টর শেষ মুহূর্তে সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। 

সূত্র

  1. Dhaka Tribune — “BNP plans to leave a maximum of 50 seats for allies” (Aug 8, 2025). 

  2. The Daily Star — “BNP’s seat-sharing math stirs unease among allies” (Oct 2025). 

  3. The Financial Express — “BNP shares 58 seats with Oikyafront, 20-party partners” (Dec 9, 2018). 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency