২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (State Guest House Jamuna) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দুইটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এক প্রতিনিধিদল প্রবেশ করেছে — বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–র (জামায়াত) প্রতিনিধি দলের সদস্যরা: নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।
এ এর আগে বিকাল ৫টায় (বা ৫:১৫ মি.) একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে — জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বৈঠকগুলোর আলোচনায় ছিল: জুলাই সনদ প্রয়োগ, নির্বাচন-সিদ্ধান্ত, প্রশাসন-রদবদল, নির্বাচন-পরিচালনায় স্বচ্ছতা ইত্যাদি।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে; প্রশাসনিক রদবদল ও নির্বাচন কমিশন-সহ সমন্বয়ে কাজ চলবে।
এই বৈঠকগুলো একদিকে রাজনৈতিক দল-সরকার মধ্যকার আলোচনার অংশ, অন্যদিকে তা নির্বাচন-প্রস্তুতি, প্রশাসন-রদবদল এবং নিয়োগ-স্বাধীনতা-সহ বড় ইস্যুকে আসন্ন করে তুলেছে। কিছু মূল দৃষ্টিকোণ নিচে দেওয়া হলো:
নির্বাচন-প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক সংলাপ: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের এমন সরাসরি বৈঠক ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই বৈঠকে জামায়াত ও এনসিপি-র নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসে “জুলাই সনদ” প্রয়োগ, রেফারেন্ডাম, হত্যা-রোডম্যাপ, প্রশাসন-রদবদল” ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রশাসন-রদবদল ও বিশ্বস্ততা: বিশেষ করে এই বৈঠকে উঠে এসেছে, “প্রশাসনের রদবদল, উপদেষ্টাদের সংশ্লিষ্টতা, নিরপেক্ষতা” ইত্যাদি বিষয়। একটি সংবাদে বলা হয়েছে — “Chief Adviser personally supervise administrative reshuffles before election.” এটি নির্দেশ করে যে নির্বাচন ঠিকভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন-উপদেষ্টাদের নিয়োগ-বদল গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
দল-বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা: রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, প্রশাসনের নিয়োগ ও নির্বাচন পরিচালনায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে; সেই সন্দেহ কমাতে বৈঠকগুলো আয়োজন করা হয়েছে। জামায়াত এক প্রতিবেদনে বলেছে, “কিছু উপদেষ্টা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল-পক্ষের পক্ষে কাজ করছে—তেমন উপদেষ্টাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ: আগামী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গিয়ে এই আলোচনাগুলো বস্তুত রোডম্যাপ তৈরির অংশ। যেমন, জুলাই সনদ প্রয়োগ + রেফারেন্ডাম + হত্যাকাণ্ড-রোডম্যাপ ইত্যাদি আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন-প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিয়োগ ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা বাড়লে জনআস্থা বৃদ্ধি পেতে পারে—নির্বাচনের ফলাফলকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে।
প্রশাসন-রদবদল ও দায়িত্বশীল উপদেষ্টাদের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ “উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক” হিসেবে গড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদি এই আলোচনায় ওঠা বিষয়গুলো বাস্তবে না কার্যকর হয়—যেমন নিরপেক্ষ কমিশন, সময়মতো রদবদল, দল-উপদেষ্টা-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা মোকাবিলা—তাহলে নির্বাচন-বিশ্বস্ততা সংকুচিত হতে পারে।
২২ অক্টোবর আগস্টরূপে অনুষ্ঠিত এই দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকগুলো বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন-প্ৰস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনের সামনে প্রশাসন-রদবদল, উপদেষ্টা দায়িত্ব, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ—all মিলিয়ে এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার। বৈঠকগুলো শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের ফলাফল-কার্যকরতা আগামী সময়ের নির্বাচন-ধারাকে বদলে দিতে পারে।
“Yunus meets Jamaat, NCP; reaffirms commitment to free and fair election” – The Daily Star, 22 Oct 2025.
“NCP, Jamaat demand constitutional order for implementation of July Charter” – New Age, 22 Oct 2025.
“Will personally oversee administrative reshuffles before election: CA tells Jamaat, NCP” – The Business Standard, 22 Oct 2025.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |