| বঙ্গাব্দ

রংপুর নির্বাচন: বিএনপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব বনাম জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থী কৌশল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-11-2025 ইং
  • 2775947 বার পঠিত
রংপুর নির্বাচন: বিএনপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব বনাম জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থী কৌশল
ছবির ক্যাপশন: রংপুর নির্বাচন

য়োদশ সংসদ নির্বাচন: রংপুরের রাজনীতিতে বিভাজন ও ঐক্যের চিত্র— বিএনপির চ্যালেঞ্জ, জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের ফোকাস

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভূমিকা: জাতীয় পার্টির দুর্গে নতুন সমীকরণ

জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরের ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। তবে নির্বাচনি মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার হচ্ছে বিভাজন (বিএনপি) এবং ঐক্যের (জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন) মধ্যে। যেখানে একক প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এগিয়ে, সেখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা রয়েছেন বিভ্রান্তিতে।

১. বিএনপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব: বুমেরাং হওয়ার শঙ্কা

রংপুরের ছয়টি আসনে বিএনপির প্রায় ১৮ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এই অতিরিক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি দলের জন্য একদিকে যেমন আশাবাদী হওয়ার কারণ, তেমনি অন্যদিকে তা বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিচ্ছে।

  • বিভ্রান্তি ও কোন্দল: একটি আসনে একাধিক প্রার্থীর সক্রিয়তায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসবে।

  • নির্বাচনে নিষ্ক্রিয়তা ও বুমেরাং: একাধিক কর্মী মনে করেন, মনোনয়ন বঞ্চিতরা হয়তো নির্বাচনকালে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন, এমনকি দলীয় প্রার্থীকে অযোগ্য প্রমাণের উদ্দেশ্যে বিপক্ষেও কাজ করতে পারেন, যা দলের জন্য 'বুমেরাং' হয়ে দাঁড়াবে। আগে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

  • আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য: তবে রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু এই বিভাজনকে অস্বীকার করে বলেছেন, বিএনপি একটি বড় দল, তাই একাধিক নেতার মনোনয়ন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। দলীয় হাইকমান্ড যাঁকে প্রার্থী করবেন, দলের সবাই তাঁর পক্ষেই কাজ করবে

২. ঐক্যের শক্তি: জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের অগ্রগতি

বিএনপির বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। এই দলগুলো প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রচার-প্রচারণায় তারা সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।

  • এগিয়ে থাকার কারণ: একক প্রার্থীর কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভাজনের ইঙ্গিত নেই। তাদের প্রচার-প্রচারণা সুসংগঠিত এবং লক্ষ্য স্থির।

  • আত্মবিশ্বাস: জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। রংপুর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রব্বানী বলেন, "সারা দেশের মতো রংপুরের ছয়টি আসনেও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের পক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পক্ষে সাধারণ মানুষ ভোট দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"

  • রংপুর-৩ আসনের উদাহরণ: ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল বলেন, "আমরা কোনো দলাদলিতে নেই। আমাদের পক্ষে জনগণ ভোট দেবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

৩. আসনভিত্তিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিত্র (এক নজরে)

আসনবিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরাজামায়াত প্রার্থীইসলামী আন্দোলন প্রার্থী
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া)চাঁদ সরকার, ওয়াহেদুজ্জামান মাবু, মোর্কার হোসেন সুজনঅধ্যাপক রায়হান সিরাজীএটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)পরিতোষ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আলী সরকার, আজিজুল হক, গোলাম রসুলএটিএম আজহারুল ইসলামমাওলানা মো. আশরাফ আলী
রংপুর-৩ (সদর)রিটা রহমান, সামসুজ্জামান সামু, অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, শহিদুল ইসলাম মিজুঅধ্যাপক মাহবুবার রহমান বেলালমুহাম্মদ আমিরুজ্জামান পিয়াল
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)আফসার আলী, এমদাদুল হক ভরসা, আমিনুল ইসলাম রাঙ্গাএটিএম আজম খানমাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদ হাসান
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)গোলাম রব্বানী, মোতাহারুল ইসলাম নিক্সনগোলাম রব্বানীঅধ্যাপক গোলজার হোসেন
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)সাইফুল ইসলাম, আসফাকুল ইসলাম মনুঅধ্যাপক মাওলানা মো. নূরুল আমিনবরকতুল্লাহ লতিফ

৪. অন্যান্য দলের প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি

জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে খ্যাত রংপুরে তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে দৃশ্যমান না হলেও, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, নির্বাচন করার সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দলও প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এনসিপি নেত্রী তাকিয়া জাহান চৌধুরী জানান, তিনি প্রচার চালাচ্ছেন এবং দলের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

উপসংহার: চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জটি বাইরের নয়, বরং অভ্যন্তরীন। একাধিক প্রার্থীর দ্বন্দ্ব ও কোন্দল সামাল দিয়ে দলীয় ঐক্য ধরে রাখাটাই এখন হাইকমান্ডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থীর ঘোষণা এবং সুসংগঠিত প্রচার তাদের নির্বাচনি দৌড়ে একটি প্রাথমিক সুবিধা এনে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত, সাংগঠনিক ঐক্যের শক্তি রংপুরের রাজনীতিতে কোন ফল নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


সূত্র:

  1. রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য।

  2. রংপুরভিত্তিক স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচনি প্রচারণার তথ্য।

  3. বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে প্রাপ্ত নির্বাচনি প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency