| বঙ্গাব্দ

টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষায় ১৯টি নতুন নির্দেশনা জারি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-11-2025 ইং
  • 2703858 বার পঠিত
টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষায় ১৯টি নতুন নির্দেশনা জারি
ছবির ক্যাপশন: টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষায় নতুন আদেশ: ১৯টি নির্দেশনা বাস্তবায়ন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই জলাভূমি—টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষায় নতুন একটি আদেশ জারি করেছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই আদেশটি বাংলাদেশের পানি আইন, ২০১৩ এর আওতায় জারি করা হয়েছে। আদেশে উল্লিখিত ১৯টি নির্দেশনা অনুযায়ী, হাওরগুলোর পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওরের সুরক্ষায় ১৯টি নির্দেশনা

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি এবং সংবেদনশীল জলজ বাস্তুতন্ত্রের অংশ। হাওরগুলোর সুরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলি বাস্তবায়ন করতে হবে:

  1. পাখি শিকার নিষিদ্ধ: হাওর অঞ্চলে পাখি বা পরিযায়ী পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া, জলজ বন ধ্বংস ও জলজ গাছ (হিজল, করচ ইত্যাদি) কেটে ঘের নির্মাণ করা যাবে না।

  2. পর্যটন নিয়ন্ত্রণ: হাওরের অভয়াশ্রম বা সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে পর্যটক ও হাউসবোট চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া এই এলাকাগুলোতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

  3. পানির প্রবাহ রক্ষায় পদক্ষেপ: হাওরের জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত করা যাবে না এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো কাজ করা যাবে না।

  4. বর্জ্য নির্গমন নিষিদ্ধ: হাওর এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বসতবাড়ি থেকে তরল বা কঠিন বর্জ্য নিঃসরণ করা যাবে না।

  5. নৌযান পরিচালনায় শর্ত: ১০০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের নৌযান বা হাউসবোট পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং নির্ধারিত রুট ছাড়া নৌযান চলাচল করা যাবে না।

  6. জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা: শুষ্ক মৌসুমে হাওরের জলাধারের পানি নিঃশেষ করা যাবে না, এবং নিষিদ্ধ জাল বা বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকবে।

  7. পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন: জরুরি সড়ক নির্মাণের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে।

  8. প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা: সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং হাউসবোটে পার্টি আয়োজন বা উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।

সরকারের উদ্যোগের লক্ষ্য

এই আদেশের মূল লক্ষ্য হলো টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওরের জলজ বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। সরকার মনে করে, এই দুই হাওর দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করবে, তেমনি স্থানীয় জনগণের জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পকেও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

উপসংহার

টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওরের সুরক্ষায় সরকারের ১৯টি নির্দেশনা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ওই অঞ্চলের জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র:

  1. বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ - সরকারের আইনগত নির্দেশনা

  2. টাঙ্গুয়া ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ - পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

  3. পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন - পরিবেশ অধিদপ্তর

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency