জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা: আলেম-ওলামাদের প্রতি অশোভন মন্তব্য করা যাবে না
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি তার দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, দলের নেতা-কর্মীরা যেন কোনো আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য না করেন। এটি দলের মধ্যে সুষ্ঠু আচরণ এবং ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “যারা সত্যিই জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা হলো- কোনো বিজ্ঞ আলেম-ওলামাকে নিয়ে দয়া করে কোনো অশোভন মন্তব্য করবেন না।” এখানে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা মূলত একটি সতর্কতা, যা আলেম-ওলামাদের প্রতি সবার সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠনগুলো আলেমদের খুবই সম্মানিত স্থান দেয়, এবং জামায়াতে ইসলামীও সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করছে।
এতে ডা. শফিকুর রহমান আরও যোগ করেছেন, “যদি কেউ এমনটি করেন, তবে ধরে নেওয়া হবে তিনি আসলেই জামায়াতে ইসলামীকে কোনোভাবেই ভালোবাসেন না।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সম্মান রক্ষা করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী কখনোই আপোষ করবে না। দলের নেতা-কর্মীরা যদি এই নীতি অনুসরণ না করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই পোস্টের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তার সদস্যদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছে— দলীয় ঐক্য এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, বিশেষত ইসলামিক পরিপ্রেক্ষিতে সম্মান ও সজ্জনতার আদর্শ মেনে চলা জরুরি। এক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের প্রতি অশোভন মন্তব্য দলের ঐতিহ্য ও মূলনীতি থেকে সরে যাওয়ার সমান হবে। অতএব, যারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাদের এই নীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন নির্দেশনা সাধারণত তেমনভাবে শোনা যায় না, তবে জামায়াতে ইসলামী তার সদস্যদের জন্য সর্বদা শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের দলের মূলনীতি হল ইসলামিক নীতির প্রতি আস্থা, সম্মান এবং সৎভাবে জীবনযাপন। এক্ষেত্রে, তারা শুধু দলের কাজকর্মেই নয়, সমাজে তাদের আচরণেও ইসলামী মূল্যবোধের পরিচয় দিতে চায়।
দলীয় নেতারা, বিশেষ করে আমিরদের এই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী যে দায়িত্বশীলতা এবং নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করছে, তা দেশব্যাপী আলোচিত। এটি দলের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া, দলের মধ্যে যেকোনো ধরনের অশালীনতা কিংবা অশোভন মন্তব্য এড়িয়ে চলার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী একটি ভালো উদাহরণ স্থাপন করতে চায়।
অবশ্য, আলেম-ওলামাদের নিয়ে কোনো ধরনের অশোভন মন্তব্য করা সমাজের জন্যও খারাপ, কারণ আলেমরা হচ্ছেন ইসলামী সমাজের পথপ্রদর্শক। তারা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটান এবং মুসলিম সমাজকে সঠিক পথ দেখান। তাই, তাদের সম্মান করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে আলেমদের বিরুদ্ধে কটূক্তি বা অশোভন মন্তব্য করা ইসলামিক নীতির বিরোধী।
এটি পরিষ্কার যে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বার্তা শুধু দলের নেতা-কর্মীদের জন্য নয়, বরং সমাজের সবার জন্য একটি শিক্ষা। আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান এবং সঠিক আচরণ মেনে চলা আমাদের ইসলামী মূল্যবোধের অংশ। জামায়াতে ইসলামী, তার নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মাধ্যমে, এটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে সম্মান এবং শৃঙ্খলা সমাজে সুস্থ ও সুষ্ঠু সম্পর্ক বজায় রাখতে অপরিহার্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |