| বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে বাউলদের মানববন্ধনে হামলা: তীব্র নিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-11-2025 ইং
  • 4380355 বার পঠিত
মানিকগঞ্জে বাউলদের মানববন্ধনে হামলা: তীব্র নিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
ছবির ক্যাপশন: তীব্র নিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতারের পর মানববন্ধনে হামলা—তীব্র নিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় গান পরিবেশনের সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জে “মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম–ওলামা ও তৌহিদী জনতা” ব্যানারে একদল ব্যক্তি মানববন্ধনস্থলে হামলা চালায়।

হামলায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন, যা এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“এটি উদ্বেগজনক এবং ন্যক্কারজনক। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার মাধ্যমে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”


ছাত্র আন্দোলনের উদ্বেগ ও দাবি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়—
“আমরা লক্ষ্য করছি—এর আগে বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙা, মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া, দরগাহ ও ওরসকে কেন্দ্র করে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ ধর্মীয় বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে নানা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। জুলাই ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত অস্বস্তিকর।”

বিবৃতিতে সংগঠন আরও বলে—
“জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ নির্মাণ—যেখানে ধর্ম, সম্প্রদায়, চিন্তা, মত, ধারা–উপধারা নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। এ ধরনের হামলা অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের চেতনাকে অসম্মান করে।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়, পাশাপাশি বাউল শিল্পী, ফকির এবং অন্যান্য ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক ধারার ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


ঘটনার প্রেক্ষাপট

🔹 ২৩ নভেম্বর ঘিওর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকার গ্রেফতার হন।
🔹 পরদিন তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
🔹 মানববন্ধনে হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
🔹 হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি প্রশাসন।

এ ঘটনার পর বাউল শিল্পী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার — ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে বাউল ও সুফিবাদ বহু শতাব্দী ধরে লোকসংস্কৃতির একটি অংশ।
ইতিহাস বলছে—
✔ ১৯৫০–৭১: বাউল–লোকসংগীত গণমানুষের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখে
✔ ১৯৭৫–২০০০: ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়লে কয়েক দফা বাউলপল্লীতে হামলার ঘটনা ঘটে
✔ ২০০০–২০২৩: কয়েকবার বাউল ও ফকিরদের ওপর হামলা সামাজিকভাবে বিতর্ক তোলে
✔ ২০২৪–২৫: ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর “সমান মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা” স্লোগান সামনে আসে

তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতে—
“বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রতা ও সহিংসতা দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পথে বড় বাধা।”


বিশ্লেষণ

১) এ ঘটনা শুধু হামলা নয়—ধর্মীয় বৈচিত্র্য বনাম সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সংঘাত
২) প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে উত্তেজনা বাড়তে পারে
৩) এটি নির্বাচনের আগে মানবাধিকার–সংলাপকে আরও তীব্র করবে
৪) বাউল সম্প্রদায় আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে


সূত্র

১) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
২) আক্রান্ত বাউল সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের তথ্য
৩) মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় সংবাদদাতাদের তথ্য

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency