প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি লকার খুলে মোট ৮৩২ ভরি (৯ হাজার ৭০৭ দশমিক ১৬ গ্রাম) স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের মহাপরিচালক জানান, এই সোনা শুধুমাত্র শেখ হাসিনার একার নয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে এসব সোনা জমা রাখা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে সাধারণ অলংকারের পাশাপাশি সোনার নৌকা ও হরিণ-এর মতো বিশেষ কিছু সামগ্রীও রয়েছে।
দুদক মহাপরিচালক নিশ্চিত করেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এই বিপুল পরিমাণ সোনা বৈধ না অবৈধ, তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দুদক জানায়, শেখ হাসিনা ২০০৭ সালে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিলেন, তাতে তিনি পূবালী ব্যাংকে একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে দুটি লকার থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর সূত্র ধরেই দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে লকারগুলো খোলার আবেদন করেন।
মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের আদেশে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অনুসন্ধান তদারক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সোনা বিশেষজ্ঞ, এনবিআরের কর গোয়েন্দা ও সিআইসি মনোনীত দুজন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লকারগুলো খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তিনটি লকার খুলে মালামালের ‘ইনভেন্টরি’ (তালিকা) তৈরি করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ব্যাংকের ভল্টে থাকা নথি যাচাই করে মোট ৮৩২ ভরি সোনা উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে দুদক।
অগ্রণী ব্যাংক (প্রধান শাখা, প্রথম লকার): ৫ হাজার ৯২৩ দশমিক ৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার।
অগ্রণী ব্যাংক (দ্বিতীয় লকার, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার নামে): ৪ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার।
পূবালী ব্যাংক (মতিঝিল শাখা, শেখ হাসিনার নামে): এই লকারটি খুলে একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া গেছে।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানান, "লকারে রাখা চিরকুটের বর্ণনা অনুযায়ী স্বর্ণালংকার শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহেনা সিদ্দিকী, তার ছেলে ববি (রাদওয়ান মুজিব)-এর মর্মে ধারণা করা যাচ্ছে।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ১৯৫০ সাল থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর গঠন, সরকার গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী সবসময়ই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতাদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে যে আইনি কঠোরতা দেখা গিয়েছিল, বর্তমান সময়ে দুদক কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সম্পদ যাচাইয়ের এই পদক্ষেপ একই ধরনের গুরুত্ব বহন করে।
আইনি প্রক্রিয়ায় এখন দুদকের মূল চ্যালেঞ্জ হলো—উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার (যা অলংকার, নৌকা ও হরিণসহ বিভিন্ন রূপে রয়েছে) শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং এর বৈধ উৎস প্রমাণ করা যায় কি না। এই অনুসন্ধান দেশের দুর্নীতিবিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মহাপরিচালক আক্তার হোসেন কর্তৃক প্রদত্ত সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য।
মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের লকার খোলার আদেশ সংক্রান্ত নথি।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ২০০৭ সালে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী সংক্রান্ত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |