| বঙ্গাব্দ

আদালতে প্রভাব নেই: হাসিনার বিচার হচ্ছে 'নিজের গড়া আদালতে' - রিজভী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2396081 বার পঠিত
আদালতে প্রভাব নেই: হাসিনার বিচার হচ্ছে 'নিজের গড়া আদালতে' - রিজভী
ছবির ক্যাপশন: রিজভী

🇧🇩 আদালতের নিরপেক্ষতা প্রশ্নে উত্তাপ: 'নিজের গড়া আদালতে'ই বিচার হচ্ছে শেখ হাসিনার, দাবি রিজভীর

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত, তখন আদালতের রায় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া সাম্প্রতিক রায়ে আদালতকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ ছিল না। বরং নিজের তৈরি করা আদালত ও ট্রাইব্যুনালেই এখন তাঁর বিচার হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর), শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আয়োজিত আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদালতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের আইনকে শুধু নিজের স্বার্থে প্রয়োগ করেছেন।

রিজভীর মন্তব্যটি ইঙ্গিত দেয় যে, একটি অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা দুর্নীতির মামলার রায় এসেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ডা. মিলনের শাহাদাত ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট)

এই আলোচনা সভার স্থান ও সময় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২৭ নভেম্বর শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলন শহীদ হন, যা তৎকালীন এরশাদ সরকারের পতন এবং বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনের পথ সুগম করেছিল।

  • ১৯৯০ সালের প্রেক্ষাপট: ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার। ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সেই আন্দোলনের প্রতীক। রিজভী আহমেদ এই ঐতিহাসিক দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলে মূলত ১৯৯০ সালের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা তুলে ধরলেন।

  • বিচার বিভাগের রাজনৈতিকীকরণ (১৯৫০-২০২৫): ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব সময়ই রাজনৈতিক চাপের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার বিচার ও সাজা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, রিজভী যখন বলেন "নিজের গড়া আদালত ও ট্রাইব্যুনালেই বিচার হচ্ছে," তখন তিনি বোঝাতে চান যে, অতীতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাংলাদেশে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা হলেও, তা বাতিলের পর থেকে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।) **

নির্বাচনের বিকল্প নেই: আমান উল্লাহ আমানের মন্তব্য

অন্যদিকে, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। তবে, তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতাবিরোধীরা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না।”

  • বিশ্লেষণ: আমান উল্লাহ আমানের এই বক্তব্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে নির্বাচন বর্জনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ‘নির্বাচনের বিকল্প নেই’ মন্তব্যটি দলের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। পাশাপাশি, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা’ (যা সাধারণত সরকারপক্ষ বিরোধীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে) নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করাও একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বিএনপি'র মূলধারার রাজনৈতিক ভাষ্য থেকে ভিন্ন হওয়ায়, এর নিগূঢ় অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন বিচার বিভাগ ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, তখন রিজভী ও আমানের এই ভিন্নমুখী মন্তব্য দেশের রাজনীতিকে আরও জটিল ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।


সূত্র

১. শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আলোচনা সভার বক্তব্য (২৭ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের ঐতিহাসিক নথি। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক মামলা ও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার ওপর বিভিন্ন আইন বিশ্লেষকের প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency