| বঙ্গাব্দ

৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া: নেই সুনামির শঙ্কা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2422792 বার পঠিত
৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া: নেই সুনামির শঙ্কা
ছবির ক্যাপশন: ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

সুনামির আশঙ্কা নেই: ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ৬.৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূল। ভূকম্পনটি বেশ তীব্র হলেও, ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে এতে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। এই অঞ্চলে গত দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো অনুভূত হওয়া শক্তিশালী ভূ-কম্পন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি আচেহ প্রদেশের কাছে সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছে। ইন্দোনেশিয়ার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া অবশ্য জিএফজেড জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের বরাত দিয়ে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.২ বলে উল্লেখ করেছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রাথমিকভাবে $2.68$ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং $95.96$ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

ভূমিকম্পের কারণ ও সাম্প্রতিক কম্পন

ইন্দোনেশিয়া ভূ-কম্পনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল, কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগরের চারদিকে থাকা আগ্নেয়গিরি এবং টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় এলাকা 'রিং অফ ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলেই নিয়মিতভাবে এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

  • গভীরতা: ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর তীব্রতা ভূমিতে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে সাগরের খুব গভীরে না হওয়ায় এবং প্লেটের মুভমেন্টের ধরন বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ সুনামির আশঙ্কা বাতিল করেছে।

  • সাম্প্রতিক সতর্কতা: এর আগে বুধবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টায় দেশটির নর্থ সুলাওয়েসি অঞ্চলে ৫.১ মাত্রার একটি তুলনামূলক কম গভীরতার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।

ভূমিকম্প ঝুঁকি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০-২০২৫)

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূল অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও সুনামি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এই অঞ্চলের একটি মাত্র ঐতিহাসিক ঘটনা বৈশ্বিক প্রস্তুতিকে আমূল পরিবর্তন করেছিল:

  • ২০০৪ সালের বিপর্যয়: ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে আচেহ প্রদেশের কাছাকাছি এলাকাতেই ৯.১ মাত্রার যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, তা ভারত মহাসাগরে প্রলয়ঙ্করী সুনামির জন্ম দেয়। সেই সুনামিতে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই লক্ষাধিক মানুষ মারা গিয়েছিল। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম বা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপনে এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসে। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: ২০০৪ সালের বিপর্যয়ের পর ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো (যেমন বাংলাদেশ) দুর্যোগ মোকাবিলায় অবকাঠামো, বিশেষ করে সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে।) **

  • ভূ-তাত্ত্বিক গুরুত্ব: বর্তমানে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা না থাকাটা প্রমাণ করে যে, ২০০৪ সালের পর দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো এখন দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে সক্ষম।

এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্পের ঘটনা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উন্নত প্রস্তুতি এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।


সূত্র

১. রয়টার্স ও সিনহুয়া বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন (২৭ নভেম্বর, ২০২৫)।

২. ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

৩. ইউএস জিওলজিকাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ভূ-কম্পন সংক্রান্ত ডেটা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency