🇧🇩 সংকটকালে আবেগ ও আকুতি: খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য তারেক রহমানের ঐকান্তিক অনুরোধ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই নেত্রীর আশু রোগমুক্তির জন্য দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ঐকান্তিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫) সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই অনুরোধ জানান। এই পোস্টে তিনি যেমন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, তেমনি নিজের মায়ের প্রতি স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পোস্টে লেখেন,
"বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন।"
তিনি দেশের সব নাগরিকের পাশাপাশি চিকিৎসক দল এবং বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এরপর তিনি ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশ করে লেখেন:
"এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।"
তারেক রহমানের এই বার্তা শুধু একজন অসুস্থ মায়ের জন্য সন্তানের আর্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব, নির্বাসন এবং প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষার এক জটিল প্রতিচ্ছবি।
১৯৫২: আদর্শের জন্য নির্বাসন: ১৯৫০-এর দশকে স্বাধিকার আন্দোলনে অনেক নেতাকে রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে বা কারাগারে থাকতে হয়েছে। এটি ছিল আদর্শের জন্য ত্যাগ।
১৯৭৫: জিয়া পরিবারের উত্থান: ১৯৭৫ সালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। এরপর বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে (১৯৮০-১৯৯০) গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।
২০০৯-২০২৫: নেতৃত্ব ও নির্বাসন: ২০০৯ সাল থেকে তারেক রহমান রাজনৈতিক কারণে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। এই সময়কালে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং মায়ের অসুস্থতার সময় দেশে ফিরতে না পারার অক্ষমতা, দেশের গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর বর্তমান পোস্টে 'রাজনৈতিক বাস্তবতার' উল্লেখ গণতন্ত্রের পথে দেশের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে মনে করিয়ে দেয়।
২০২৫: বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি 'একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়' বলায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনি প্রক্রিয়া এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহানুভূতি ও সংহতি জানানো অব্যাহত রয়েছে:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস: তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
রাশেদ খান (গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক): শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে তিনি বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া আগামীর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য, গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন, সংগ্রামের জন্য অনুকরণীয়।"
ড. মির্জা গালিব (সহকারী অধ্যাপক, হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়): শনিবার (২৯ নভেম্বর) তিনি বলেন, খালেদা জিয়া "জালিম হয়ে উঠার চাইতে মজলুম থাকাই যে ভাল; ক্ষমতার দম্ভের চাইতে মানুষের হৃদয়ের ভালবাসাই যে বড়- তার সবচাইতে বড় উদাহরণ।"
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম: শনিবার (২৯ নভেম্বর) বলেন, "বাংলাদেশের জন্য বেগম জিয়ার মতো দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন এখনো বিদ্যমান।"
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বজনীন এই সংহতি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নেত্রীর প্রতি জনগণের গভীর ভালোবাসাকে প্রতিফলিত করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্ট (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, শনিবার)
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভস ও গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯৫০-২০২৫)
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রধান উপদেষ্টা, রাশেদ খান, ড. মির্জা গালিব ও ডাকসু ভিপির বক্তব্য (২৮-২৯ নভেম্বর, ২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |