প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল জনআকাঙ্ক্ষা। ৫৪তম বিজয় দিবসের বিকেলে বাংলাদেশ রাজনীতিতে নতুন এক মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর প্রিয় স্বদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তারুণ্যের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অভিনব প্রতিযোগিতার ডাক দিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে গুলশানে বিএনপির নবনির্মিত কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ: জাতীয় রিল মেকিং প্রতিযোগিতা’ শুরু হচ্ছে আজ থেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন বলেন, "তারেক রহমান সবসময় আগামীর বাংলাদেশের কথা বলেন। তাই তরুণ প্রজন্ম তাদের স্বপ্নের দেশ কেমন চায়, তা তুলে ধরতেই এই প্রতিযোগিতা।" রিল মেকিং প্রতিযোগিতা ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের রিলে শ্রেষ্ঠ ১০ জন বিজয়ী সরাসরি তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত আলাপের বিরল সুযোগ পাবেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ১১টি থিম নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা, ধর্মীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মান এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। অংশগ্রহণকারীরা ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করে হ্যাশট্যাগ ‘বাংলাদেশ ফাস্ট’ (#BangladeshFirst) ব্যবহার করে বিএনপির অফিসিয়াল পেজে লিংক জমা দেবেন। বিচার প্রক্রিয়ায় ৩০ শতাংশ জনমত এবং ৭০ শতাংশ জুরি বোর্ডের নম্বর থাকবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজপথ ছিল রক্তভেজা। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ২০০৭-এর ওয়ান-ইলেভেনের ছক দেশের রাজনীতিকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাড়ি দেওয়া তারেক রহমান দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সেখান থেকেই আগামীর বাংলাদেশের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন।
২০২৪-এর ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসটি যেন তারুণ্যের বিজয়ের প্রতীক। আজ লক্ষ্মীপুরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যেমনটা বলেছেন—জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকতো; তেমনি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ।
সংবাদ সম্মেলনে গুলশানের নতুন ভবনটি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মাহাদী আমিন জানান, এটি বিএনপির একটি অফিস। এখান থেকেই দলের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উপস্থিত নেতারা জানান, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এই কার্যালয়টি হবে নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য সায়মুন পারভেজ এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর—এই ১০ দিন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ। একদিকে শরিফ ওসমান হাদির মতো বিপ্লবীদের রক্তদান, অন্যদিকে তারেক রহমানের মতো নেতার প্রত্যাবর্তন; সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়।
সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল, গুলশান কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন, তারেক রহমানের প্রেস উইং এবং যুগান্তর।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় ফেলে বিশ্লেষণ করেছে। এটি স্পষ্ট করে যে, তারেক রহমানের ফেরা কেবল একটি দলীয় বিজয় নয়, বরং দীর্ঘ নির্বাসিত রাজনীতির এক নতুন যুগের সূচনা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |