| বঙ্গাব্দ

মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার ইতিহাস: সাইফুল হকের বিবৃতি ও বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-12-2025 ইং
  • 2069187 বার পঠিত
মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার ইতিহাস: সাইফুল হকের বিবৃতি ও বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি
ছবির ক্যাপশন: সাইফুল হক

মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার স্বরূপ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে ‘মব সন্ত্রাস’ এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহে গার্মেন্টসকর্মী দীপু দাসের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ঘরে আগুন দিয়ে শিশু কন্যা হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে এই ধরনের নৃশংসতা বাড়ছে। ১৯৫০-এর দশকের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও বিচারহীনতা বারবার এদেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

১৯৫০-১৯৭১: রাজনৈতিক সহিংসতা ও অধিকারের লড়াই

১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল মূলত শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের ফল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় মব ব্যবহারের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার শপথ নিয়েছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে তা বারবার হোঁচট খেয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কাছে।

১৯৭৫-১৯৯০: সামরিক শাসন ও মাফিয়া রাজনীতির উত্থান

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে যে ‘ইনডেমনিটি’ বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সামরিক শাসনের আমলে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। আশির দশকে এরশাদের সামরিক শাসনের সময় মব সন্ত্রাস ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

২০২৪-২০২৫: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অস্থিরতা ও মব সন্ত্রাস

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা মব সন্ত্রাস এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাইফুল হক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, "আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়ও এরকম নৃশংসতার বিষয় জানা যায় না।" ময়মনসিংহে গার্মেন্টসকর্মী দীপু দাসের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া, লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ঘরে তালা দিয়ে আগুন দেওয়া এবং শিশু আয়শার মৃত্যু—এসবই বিচারহীনতার ফল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীতে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশে এখন জানমালের নিরাপত্তার চরম অভাব। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা আদর্শিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা না করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের দীর্ঘ ৭৫ বছরে বাংলাদেশ অনেক অর্জনের সাক্ষী হলেও একটি শক্তিশালী বিচারিক কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক মাফিয়া ও দুর্বৃত্তরা বারবার সরকারকে জিম্মি করেছে। সাইফুল হকের মতে, রাজবাড়ীতে কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার বিচার না হওয়ায় আজ ময়মনসিংহে একই ধরনের বীভৎসতা ঘটছে। ২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মব সন্ত্রাস বন্ধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতি ও সংবাদ)। ২. প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ (২০২৫ সালের মব সন্ত্রাস ও হামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন)। ৩. উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার ইতিহাস)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency