নির্বাচনি নিরাপত্তা ও যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযান: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিবর্তন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের আগে যারা নাশকতা, ভ্যান্ডালিজম বা দস্যুতার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ‘মানবিক আচরণের প্রয়োজন নেই’ বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অপারেশন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনি সংস্কৃতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে দীর্ঘ পরিক্রমা, তার আলোকে বর্তমান প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচনি পরিবেশ ছিল শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির বিপুল বিজয় থাকলেও পরবর্তীতে সামরিক শাসনের যাঁতাকলে নির্বাচনি প্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যুদয়ের পর ১৯৭৩-এর প্রথম সাধারণ নির্বাচন এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসনের অধীনে বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইতিহাস বাংলাদেশে রয়েছে। তবে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটি স্থায়ী আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যা ২০২৫ সালে এসে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পথে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বৈঠকের শুরুতে জুলাই যোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
ইসির নির্দেশনাসমূহ নিম্নরূপ:
যৌথ বাহিনীর অপারেশন: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বিশেষ চেকপয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে জনমনে আস্থা ফেরাতে মাঠপর্যায়ে যৌথ অভিযান শুরু হচ্ছে।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলাকে নির্বাচনি পরিবেশের ওপর বড় আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইসি কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে ‘বন্ধু সেজে’ যারা পাশে এসে পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের বিষয়ে প্রার্থী ও দলগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা চোরাগোপ্তা হামলা চালাবে, তারা যেন কোনোভাবেই পালাতে না পারে তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা বেশি, সেখানে অধিকতর খবরদারি করার জন্য বাহিনীগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৫ বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই রাষ্ট্রযন্ত্র কঠোর হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনেছে, তখনই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টেকসই হয়েছে। ২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর নির্দেশাবলি—বিশেষ করে যৌথ বাহিনীর পুনরায় মোতায়েন এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর গৃহীত কঠোর অবস্থান—একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন (নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংবাদ সম্মেলন ও যৌথ বাহিনীর অভিযান সংক্রান্ত প্রতিবেদন)। ২. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক ডায়েরি: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক আর্কাইভ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |