ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের স্মৃতিচারণ ও আগামীর বাংলাদেশ: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর রাজনৈতিক পরম্পরা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২১শে ফেব্রুয়ারি বা ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট পর্যন্ত প্রতিটি বাঁক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন মুখের আগমনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের একটি আবেগঘন পোস্ট দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল ১৯৫০-এর দশকে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব ও পারিবারিক আদর্শ বড় ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকালে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফেসবুক পোস্টটি যেন সেই পারিবারিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসেরই এক মানবিক দলিল হয়ে সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দেওয়া এক পোস্টে জাইমা রহমান তার দাদু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি জানান, তার বয়স যখন ১১ বছর, তখন স্কুলের ফুটবল টিমে মেডেল পাওয়ার পর দাদুকে সেই গল্প শোনানোর স্মৃতি আজও তার মনে অমলিন। জাইমা লিখেছেন, "লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন কেবলই দাদু।" এই স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাঁধে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব থাকলেও পরিবারের প্রতি তাদের মমতা ও নম্রতা ছিল অতুলনীয়।
২০০৭ সাল পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সতেরো বছর দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে। লন্ডনে কাটানো এই দিনগুলো তাকে বাস্তববাদী এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করে তুলেছে। আইন পেশায় নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং ন্যায়বিচার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। জাইমা উল্লেখ করেছেন, তিনি তার দাদাকে (জিয়াউর রহমান) দেখেননি, তবে তার সততার গল্প শুনে বড় হয়েছেন। সেই আদর্শকে ধারণ করে ২০২৪-এর ২৪শে জুলাই পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে জাইমা রহমান এখন দেশে ফিরছেন। তিনি তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশে ফিরে তিনি তার দাদুর পাশে থাকতে চান এবং বাবা তারেক রহমানকে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান। তিনি বলেন, "একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক।" ২০২৫ সালের এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাইমা রহমানের এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক আশার আলো দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক বিবর্তন, সেখানে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। জনগণের প্রত্যাশা ও কৌতূহলকে পাথেয় করে জাইমা রহমান যে নতুন যাত্রার কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন—সবকিছুর মূলেই রয়েছে পারিবারিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। জাইমা রহমানের এই ব্যক্তিগত অনুভূতি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তরাধিকার ও আগামীর সম্ভাবনার এক প্রতিচ্ছবি। তারুণ্য, প্রজ্ঞা এবং পূর্বসূরিদের আদর্শের সংমিশ্রণে তিনি নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সূত্র: ১. ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল (২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. দৈনিক যুগান্তর অনলাইন ও রাজনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |