কারাগারে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে মারধর: ছড়ানো তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল কারা কর্তৃপক্ষ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে মারধর করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) কারা অধিদপ্তরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্পষ্টীকরণ করা হয়।
কারা অধিদপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১–এ বন্দি আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কয়েদি বা হাজতিদের দিয়ে জঙ্গিবাদের দোহাই দিয়ে মারধর করার যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রকৃতপক্ষে তথ্যটি সম্পূর্ণই মিথ্যা। আতাউর রহমান বিক্রমপুরী কারাগারে বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। একটি বিশেষ চক্র দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ধরনের অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।” কারা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে নরসিংদী থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কারাগার সবসময়ই একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমলে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বরেণ্য নেতারা কারাবন্দি ছিলেন, তখনও গুজব ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হতো। ১৯৫২ সালে রাজবন্দিদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে জেলের ভেতরে অনশন করার ইতিহাস এদেশের মানুষের জানা।
১৯৭০ ও ৮০-র দশকে সামরিক শাসনের সময় জেলখানায় বন্দিদের নিয়ে নানা রহস্যময় তথ্য জনমনে ভীতি ছড়াত। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে জেল কোড ও মানবাধিকার সুরক্ষায় অনেক সংস্কার আনা হয়। তবে ২০২৪-২৫ সালে এসে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিপ ফেক’ বা ‘গুজব’ ছড়ানোর সংস্কৃতি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালে যা ছিল মুখের কথা বা লিফলেট, ২০২৫ সালে তা ডিজিটাল কন্টেন্ট হিসেবে দ্রুত ছড়িয়ে জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বর্তমান ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের গ্রেপ্তার বা কারাগারে অবস্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকে। আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য পরিষ্কার করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ১৯৫০ থেকে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের শিক্ষা হলো—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতাই গুজব প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কারা কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সূত্র: ১. কারা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. ডিএমপি ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) প্রেস নোট। ৩. বাংলাদেশ জেল কোড ও ঐতিহাসিক কারাবন্দি বিষয়ক আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |