আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' ওয়েবসাইটের উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে প্রস্তুত করে দেওয়া হলো:
তারেক রহমানকে ঘিরে গণজোয়ার ও নির্বাচন ঘিরে প্রেস সচিবের স্পষ্ট বার্তা: ‘৪৮ দিন পর ভোট’
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় যে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে, তাকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম জানান, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে—এ নিয়ে আর কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এখন আর মাত্র সাত সপ্তাহ বা ৪৯ দিন দূরে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে—এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন নেই।”
প্রেস সচিব আরও জানান, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হবে। এরপর দেশজুড়ে প্রার্থীরা প্রচারে নামবেন, ছাপাখানাগুলোতে পোস্টার তৈরির ধুম পড়বে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে শুরু হবে প্রাণবন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক বিতর্ক। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের গভীর রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার একমাত্র পথ হলো একটি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতি অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু করেছিল, তখন থেকেই নেতার জন্য রাজপথে নেমে আসত লাখ লাখ মানুষ। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির সেই গণজোয়ার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। একইভাবে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৯০ সালের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও মানুষের অংশগ্রহণই ছিল মূল শক্তি।
২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে এসে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ সমবেত হয়েছে, তাকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর দশকের সেই গণতান্ত্রিক স্পৃহার সঙ্গেই তুলনা করছেন। ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের নেতার প্রতি এই জনসমর্থন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানকে ঘিরে রাজধানীতে এমন বিপুল জনসমাগম এবং তা নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ইতিবাচক মন্তব্য প্রমাণ করে যে, দেশ এখন একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে উন্মুখ। প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাষায়, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশের বর্তমান ক্ষত ও রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মনেই নয়, বরং পুরো দেশের নির্বাচনপ্রত্যাশী মানুষের মাঝে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এখন সবার নজর ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে ২০২৫ পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ভাগ্য।
সূত্র: ১. প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের অফিসিয়াল ফেসবুক স্ট্যাটাস (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনি রোডম্যাপ ও বিজ্ঞপ্তি। ৩. ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল ও আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |