| বঙ্গাব্দ

৫টির বেশি সিম ব্যবহার নিষিদ্ধ | বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্ত ২০২৬ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 2940500 বার পঠিত
৫টির বেশি সিম ব্যবহার নিষিদ্ধ | বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্ত ২০২৬ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ৫টির বেশি সিম ব্যবহার নিষিদ্ধ

এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ ৫ সিম: মোবাইল ব্যবহারে বিটিআরসির কঠোর পদক্ষেপ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সিম কার্ডের অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিটিআরসির এক জরুরি নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে এক ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখার সুযোগ থাকলেও এখন তা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হলো।

নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব ও বর্তমান চিত্র বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে যাদের নামে ৫টির বেশি সিম রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলো ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করা হবে। গত আগস্টে ১০টির বেশি সিম থাকা গ্রাহকদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাড়তি সিম বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটির তথ্যমতে, সে সময় প্রায় ৬৭ লাখ গ্রাহকের কাছে ১০টির বেশি সিম ছিল, যার মধ্যে ১৫ লাখ সিম গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। অবশিষ্ট প্রায় ৫৩ লাখ সিম এখন মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অক্টোবর ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ এবং রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ। মজার ব্যাপার হলো, সিম ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে, যা জাপান, জার্মানি বা যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর চেয়েও বেশি।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ — যোগাযোগ ব্যবস্থার বিবর্তন

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার এই বর্তমান পর্যায়টি সাত দশকের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ১৯৫০-এর দশকে অ্যানালগ টেলিফোন থেকে আজকের ৫জি প্রযুক্তির এই পথরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫৪-এর প্রেক্ষাপট: ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে টেলিযোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় প্রচারণার প্রধান মাধ্যম ছিল মাইক এবং লিফলেট। তখন সাধারণ মানুষের জন্য টেলিফোন ছিল এক বিলাসিতা।

  • ১৯৭১ ও স্বাধীন বাংলাদেশ: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ‘বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড’ (বিটিটিবি) গঠন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন শুরু করেন।

  • ১৯৯০-এর দশক (মোবাইলের যাত্রা): ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯৩ সালে দেশে প্রথম মোবাইল ফোন সেবা (প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম তথা সিটিসেল) চালু হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মোবাইল খাতের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বেসরকারি অপারেটরদের (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক) লাইসেন্স দেয়।

  • ২০০৮-২০২৪ (ডিজিটালাইজেশন ও বায়োমেট্রিক): ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও এনআইডি চালুর পর সিম নিবন্ধনে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করে। ২০১৬ সালে সিম কার্ডের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনার এই চূড়ান্ত সংস্কার শুরু হলো।

  • ২০২৫-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৫ সালের এই শেষ প্রান্তে এসে বিটিআরসি ৫টি সিমের সীমা নির্ধারণ করার মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজে সিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল আইডেন্টিটি সুসংহত করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে মোবাইল অপারেটরদের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘমেয়াদে ডাটা সিকিউরিটি বৃদ্ধি পাবে। তবে মোবাইল অপারেটররা বরাবরই এই সীমার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মতে, একজন মানুষ স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ বা রাউটারের জন্য পৃথক সিম ব্যবহার করলে ৫টি সিমের সীমা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল হতে পারে।


সূত্র: ১. বিটিআরসি (BTRC) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. ডেইলি স্টার ও যুগান্তর অনলাইন সংস্করণ। ৩. বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগের ইতিহাস: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency