প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জেরুজালেম: ১৯০০ সালের প্রারম্ভিক কাল থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সাল—সওয়া এক শতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম এবং পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময়ে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং ব্রিটিশ ম্যান্ডেট থেকে শুরু করে বর্তমানের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধাবস্থা, আল-আকসা বারবার আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের জেরে ঘোষিত ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আল-আকসায় নামাজ ও তারাবিহ বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
আল-আকসা মসজিদের খতিব এবং জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন:
আধিপত্য বিস্তারের কৌশল: শায়খ সাবরির মতে, নিরাপত্তার অজুহাত কেবল একটি আবরণ। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পবিত্র মসজিদের ওপর ইসরাইলি প্রশাসনিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া।
ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা খর্ব: তিনি অভিযোগ করেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় ক্ষমতাকে পরিকল্পিতভাবে খর্ব করা হচ্ছে।
মৌলিক অধিকার হরণ: মসজিদে ইবাদত করতে না দেওয়াকে তিনি ইবাদতের স্বাধীনতার চরম পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করেন।
জেরুজালেম গভর্নরেট এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আল-আকসার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা: রমজানের শুরুতে যেখানে ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি তারাবিহ আদায় করতেন, সেখানে এখন মাত্র গুটিকয়েক কর্মচারী ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পুরনো শহরের স্থবিরতা: ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশে পুরনো শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল বেকারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকলেও কড়া তল্লাশির কারণে মানুষ বের হতে পারছে না।
হেবরনের পরিস্থিতি: একই অজুহাতে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত পবিত্র ইব্রাহিমি মসজিদও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় জেরুজালেমের সিলওয়ান ও পুরনো শহর এলাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এই নিরাপত্তাহীনতাকে পুঁজি করেই ইসরাইলি পুলিশ মসজিদ থেকে সাধারণ মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়েছে। বর্তমানে মসজিদের ভেতরে কেবল প্রহরীরা অবস্থান করছেন।
২০২৬ সালের এই সংকট কেবল একটি সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবারই বড় কোনো যুদ্ধের অজুহাতে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার চেষ্টা করা হয়েছে। রমজানের এই পবিত্র মাসে হাজার হাজার মুমিনকে তারাবিহ থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনেরও চরম লঙ্ঘন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা (৩ মার্চ ২০২৬), ওয়াদি হিলওয়া তথ্যকেন্দ্র এবং জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিল প্রেস রিলিজ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও সংবাদ পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |