| বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আবু হানিফের নির্বাচন বর্জন | ২০২৫ নির্বাচনী জোটের সমীকরণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-12-2025 ইং
  • 1973119 বার পঠিত
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আবু হানিফের নির্বাচন বর্জন | ২০২৫ নির্বাচনী জোটের সমীকরণ
ছবির ক্যাপশন: আবু হানিফের নির্বাচন বর্জন

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সমীকরণের বদল: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আবু হানিফ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে বেশ কিছুদিন গণসংযোগ ও প্রচারণা চালানোর পর তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাসের পাতায় জোট ও ত্যাগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকেই এদেশের মানুষের মধ্যে স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের চেতনা দানা বাঁধতে শুরু করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল জোটবদ্ধ লড়াইয়ের প্রথম বড় উদাহরণ। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশেও বারবার রাজনৈতিক জোট ও সমঝোতার প্রতিফলন ঘটেছে।

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান কিংবা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৃহৎ স্বার্থে ব্যক্তিগত বা দলীয় অবস্থান ত্যাগ করার মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আবু হানিফের এই সিদ্ধান্ত যেন সেই ঐতিহাসিক ‘বৃহত্তর স্বার্থে আত্মত্যাগ’ করার রাজনীতিরই একটি অংশ। ১৯৫০ থেকে ২০২৫—এই ৭৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ বারবার দেখেছে কীভাবে জোটের প্রয়োজনে যোগ্য প্রার্থীরাও মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন।

সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার

আবু হানিফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, গণঅধিকার পরিষদ যেহেতু নির্বাচনী সমঝোতা করে এগোচ্ছে, তাই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, “যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকার মানুষের কাছে গিয়েছিলাম, নির্বাচন না করলেও আমার জায়গা থেকে চেষ্টা থাকবে সারাজীবন আপনাদের পাশে থাকার।”

তিনি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সেই সব সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি, যারা নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন। আবু হানিফের এই সরে দাঁড়ানো মূলত ২০২৫-এর ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে জোটবদ্ধ শক্তির সংহতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

২০২৫-এর রাজনীতি ও আগামীর পথ

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, আবু হানিফের এই সিদ্ধান্ত তারই একটি নিদর্শন। তিনি তাঁর পোস্টে দলের অন্য সহযোদ্ধা যারা নির্বাচনে লড়ছেন, তাদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে দলীয় ঐক্যের এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এই সমঝোতা কেবল একটি আসনের বিষয় নয়, বরং এটি ২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক শক্তির সংহতির বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা এখন দেখছেন কীভাবে পুরোনো দ্বন্দ্ব ভুলে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জোটবদ্ধ হচ্ছে।


সূত্র: ১. আবু হানিফের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেল (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency