প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ২০২৫ সালের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান তাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে যোগ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনী সমঝোতা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জোটবদ্ধ লড়াইয়ের সংস্কৃতি এদেশে নতুন নয়। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম বড় বিজয় ছিল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। সেই সময় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানীর জোটবদ্ধ নেতৃত্ব বাঙালিকে মুক্তির দিশা দেখিয়েছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে যে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট বাঙালি পেয়েছিল, তাও ছিল এক দীর্ঘ ঐক্যের ফসল। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ২০২৪-এর ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছাত্র-জনতার ঐক্যই ছিল মূল শক্তি। ২০২৫ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এনসিপির জামায়াত জোটে যোগদান মূলত ১৯৫০-এর সেই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামেরই এক আধুনিক সংস্করণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে এই জোট বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করতে পারে।
দলীয় সূত্রমতে, ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির একাধিক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হওয়া তালিকায় রয়েছেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির সব মুখ।
ঢাকার আসনগুলোতে যারা লড়ছেন:
ঢাকা-১১: নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি)
ঢাকা-৮: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক)
ঢাকা-২০: ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাহসিন
ঢাকা-১৯: দিলশানা পারুল
ঢাকা-৯: জাভেদ রাসিন
ঢাকার বাইরে আলোচনার শীর্ষে যারা: ঢাকার বাইরে বিশেষ নজর কেড়েছে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম এবং কুমিল্লায় হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা। এছাড়া দিনাজপুরে আব্দুল আহাদ, রংপুরে আখতার হোসেন, কুড়িগ্রামে আতিক মুজাহিদ এবং সিরাজগঞ্জে সাইফ মুস্তাফিজের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে বরিশালে আরিফ আদিব, ঝালকাঠিতে ডা. মাহমুদা মিতু এবং লক্ষ্মীপুরে মাহবুব আলমের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, এই তালিকাই শেষ নয়। জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চূড়ান্ত তালিকা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা কেবল আসন সংখ্যা নয়, বরং এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।”
২০২৫ সালের এই নির্বাচনে এনসিপির মতো তরুণ ও বিপ্লবী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে। ১৯৫০ থেকে শুরু হওয়া অধিকার আদায়ের এই রক্তঝরা পথ ২০২৫-এর ব্যালট যুদ্ধে কতোটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও যুগান্তর অনলাইন পলিটিক্যাল ডেস্ক। ৩. ‘বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জোটের রাজনীতি (১৯৫০-২০২৫)’ – বিশেষ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |