প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫: প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের কাজ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা এবং রাজনৈতিক বৈচিত্র্য দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। নিচে অঞ্চলভিত্তিক বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| অঞ্চল | সংসদীয় আসন | মনোনয়নপত্র সংখ্যা |
| ঢাকা | ৪১ | ৪৪৪ |
| কুমিল্লা | ৩৫ | ৩৬৫ |
| ময়মনসিংহ | ৩৮ | ৩১১ |
| রংপুর | ৩৩ | ২৭৮ |
| খুলনা | ৩৬ | ২৭৬ |
| রাজশাহী | ৩৯ | ২৬০ |
| চট্টগ্রাম | ২৩ | ১৯৪ |
| বরিশাল | ২১ | ১৬৬ |
| সিলেট | ১৯ | ১৪৬ |
| ফরিদপুর | ১৫ | ১৪২ |
| মোট | ৩০০ | ২৫৮২ |
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এই চিত্রটি হুট করে আসেনি। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অত্যন্ত দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ।
১৯৫০-১৯৫৪ (উত্থানকাল): ১৯৫০-এর দশকে যখন পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছিল, তখন ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল বাঙালির প্রথম বড় বিজয়। সেই নির্বাচনে মুসলিম লীগের পতন ঘটিয়ে বাঙালি নিজের রাজনৈতিক শক্তির জানান দিয়েছিল।
১৯৭০ (ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ): ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চাবিকাঠি। সেই নির্বাচনই প্রমাণ করেছিল, ব্যালট পেপার বুলেট অপেক্ষা শক্তিশালী।
১৯৭৩ (প্রথম সংসদ): স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনে সেবার প্রার্থীর সংখ্যা ছিল সীমিত।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: দীর্ঘ ৯ বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
২০২৪-২০২৫ (নতুন বাংলাদেশের যাত্রা): ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক গুমোট ভাব কাটিয়ে এবারের নির্বাচনে নবীন-প্রবীণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই বিপুল উপস্থিতি এক নতুন বাংলাদেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৫৮২ জন প্রার্থীর এই বিশাল সংখ্যা প্রমাণ করে যে দেশের মানুষের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। বিশেষ করে ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে প্রার্থীর ভিড় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতাকে প্রকাশ করে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, "আমরা একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়ায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।"
বিশ্লেষণ: ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের এই দীর্ঘ পরিক্রমায় দেখা গেছে, যখনই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখনই বড় ধরনের রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে। এবারের ২৫৮২ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন যাচাই-বাছাইয়ের টেবিলের ওপর। ২০২৬ সালের শুরুর এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণের পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র:
১. নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)।
২. বাংলাদেশ নির্বাচন ব্যবস্থার ইতিহাস (১৯৭৩-২০২৪), আর্কাইভ ডাটাবেজ।
৩. গুগল নিউজ ও রাজনৈতিক তথ্য কোষ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |