প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজেদের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বহুল আলোচিত ‘এয়ারবাস’কে বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন কোম্পানি ‘বোয়িং’ থেকেই ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদ নীতিগতভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করলেও টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাম ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত চুক্তি হবে। এই বহরে থাকছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
আকাশপথে বাংলাদেশের যাত্রার ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ। ১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানে আকাশপথের যোগাযোগ ছিল সীমিত। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিমানের বিবর্তন নজরকাড়া:
১৯৫০-এর দশক: তৎকালীন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করত। তবে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য।
১৯৭২ - বিমানের যাত্রা: স্বাধীনতার মাত্র ১৯ দিন পর ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর জন্ম হয়। একটি ডিসি-৩ উড়োজাহাজ নিয়ে শুরু হয়েছিল এই পথচলা।
১৯৯০-এর দশক: এই দশকে বিমান আধুনিকায়নের ছোঁয়া পায়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
২০২৪-২৫-এর কৌশলগত পরিবর্তন: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এভিয়েশন খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বোয়িংকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের আমলে ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার প্রাথমিক আলোচনা থাকলেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় মার্কিন বোয়িং কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মূলত দীর্ঘ দূরত্বের (ওয়াইড বডি) আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য বিশ্বখ্যাত, যা বিমানের রুট নেটওয়ার্ক বহুগুণ বাড়াবে। অন্যদিকে, বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৫ সালে এসে বিমানের এই বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের আকাশপথের যোগাযোগকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এটি শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং কার্গো বা পণ্য পরিবহনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
| বিমানের মডেল | ধরণ | সংখ্যা (প্রস্তাবিত) | ব্যবহার |
| ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার | বড় (ওয়াইড বডি) | ০৮টি | দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। |
| ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার | বড় (ওয়াইড বডি) | ০২টি | হাই-ডিমান্ড দীর্ঘ রুট। |
| ৭৩৭-৮ ম্যাক্স | মাঝারি (ন্যারো বডি) | ০৪টি | আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুট। |
এই বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়বে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এভিয়েশন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: ১. বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) কার্যবিবরণী।
২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়।
৩. বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাস ও বৈশ্বিক বিমান চলাচল তথ্যভাণ্ডার (১৯৭২-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |