| বঙ্গাব্দ

বর্তমান সংবিধান গোলামির ফাঁস: নতুন সংবিধানের দাবিতে খোমেনী ইহসানের বিক্ষোভ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-04-2026 ইং
  • 285400 বার পঠিত
বর্তমান সংবিধান গোলামির ফাঁস: নতুন সংবিধানের দাবিতে খোমেনী ইহসানের বিক্ষোভ।
ছবির ক্যাপশন: বর্তমান সংবিধান গোলামির ফাঁস

বর্তমান সংবিধান ভারতের অনুগতদের প্রণীত গোলামির ফাঁস’: নতুন সংবিধানের দাবিতে খোমেনী ইহসানের হুঙ্কার

বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘গোলামির ফাঁস’—এমন চরম বিতর্কিত ও সাহসী দাবি করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। শনিবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জুলাই বিপ্লবের পর বর্তমান সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের ‘নাটক’ বন্ধ করে জনগণের সরাসরি ভোটে সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান প্রণয়নের ডাক দিয়েছেন তিনি।

১. সংবিধান নিয়ে কঠোর অবস্থান: ‘সংস্কার নয়, নতুন প্রণয়ন’

খোমেনী ইহসান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংবিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

  • ঐতিহাসিক দাবি: তাঁর মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়, বরং এটি ভারতের অনুগত পাকিস্তানি জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা তৈরি।

  • জুলাই বিপ্লবের প্রভাব: তিনি মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে রক্ত দিয়েছে, তা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সংশোধন করার জন্য নয়, বরং পুরোপুরি বদলে ফেলার জন্য। তাই সংস্কারের বদলে একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধানই এখন সময়ের দাবি।

২. গণহত্যার বিচার: ‘ফাঁসি দেখতে চাই’

সমাবেশ থেকে খোমেনী ইহসান কেবল সংবিধান নয়, বরং বিগত বছরগুলোর সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।

  • দাবি: পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ট্র্যাজেডি এবং সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার দ্রুততম বিচার ও শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

  • কঠোর বার্তা: “জুলাইয়ের হাজারো শহীদকে হত্যার ঘটনায় হাজারো খুনির ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই”—এই স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছে বায়তুল মোকাররম চত্বর। এটি মূলত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ওপর বিচারের গতি ত্বরান্বিত করার একটি বড় চাপ।

৩. বিপ্লবী ছাত্র ও প্যান ইসলামিক ঐক্য

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ এবং প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের নেতাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এই দাবি কেবল একটি দলের নয়, বরং একটি বড় গোষ্ঠীর সম্মিলিত আওয়াজ। সাইয়েদ কুতুব, অ্যাডভোকেট শাহ আব্দুল আজীজ এবং গালীব ইহসানসহ অন্যান্য বক্তারাও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: খোমেনী ইহসানের এই বক্তব্যটি মূলত ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার কমিটির কাজের সরাসরি বিরোধিতা। তিনি মনে করছেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হবে না। তাঁর এই ‘গোলামির ফাঁস’ পরিভাষাটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভারত-নির্ভরশীলতা নিয়ে জনগণের একটি বড় অংশের ক্ষোভকে প্রতিনিধিত্ব করে। তবে নতুন সংবিধান প্রণয়ন নাকি বিদ্যমান সংবিধানের আমূল পরিবর্তন—এই বিতর্কে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত।


জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের মূল দাবিগুলো (এক নজরে)

বিষয়ের ক্ষেত্রসুনির্দিষ্ট দাবি ও বক্তব্য
সংবিধানসংস্কার নয়, জনগণের ভোটে নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
বিচারের দাবিপিলখানা, শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার।
শাস্তিখুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি কার্যকর করা।
অবস্থানবর্তমান সংবিধানকে ‘গোলামির ফাঁস’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান।

তথ্যসূত্র (Sources):

১. জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ: ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর বিক্ষোভ সমাবেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

২. বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট: সরেজমিনে সংগৃহীত সংবাদ ও বক্তাদের জবানবন্দি।

৩. বিডিএস পলিটিক্যাল ডেস্ক: বাংলাদেশের সংবিধান বিবর্তন ও জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণ বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency