প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: রাজনীতি / জাতীয়
উৎস: (জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে এক তেজস্বী ভাষণ দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার গুঞ্জন এবং জুলাই বিপ্লবের মূল্যায়ন নিয়ে তিনি সরকারের কঠোর অবস্থানের দাবি জানান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার পার্থ অত্যন্ত পরিষ্কার বার্তা দেন। তিনি বলেন:
অস্বীকারের সুযোগ নেই: “জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। যারা এই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়েছিল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।”
বিচারের আবশ্যকতা: “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।”
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পার্থ বলেন, “বাংলাদেশকে হিন্দু-মুসলমান বা আমেরিকা-রাশিয়ায় ভাগ করা যাবে না। কিন্তু যখন ইতিহাস বলবেন, তখন কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি সেটা বলতে হবে। মুক্তিবাহিনী কি হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল? আমরা রাজাকারের সঙ্গেই যুদ্ধ করেছি।”
এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফজলুর রহমান দাবি করেন যে, কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।
এর প্রতিবাদে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন:
“আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব—তা আমার নাগরিক অধিকার। এর ওপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমার আইডেন্টিটি এবং আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি গুরুতর অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন যে, ফজলুর রহমান নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানের ওপর ‘হাতুড়ি পিটিয়েছেন’, যা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
| বক্তা | মূল দাবি/বক্তব্য |
| ব্যারিস্টার পার্থ | আওয়ামী লীগের বিচারের আগে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জুলাই বিপ্লবই রাজনীতির ভিত্তি। |
| ফজলুর রহমান | মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। |
| ডা. শফিকুর রহমান | দল বাছাই করা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ। |
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্য এটিই স্পষ্ট করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদে ‘জুলাই বিপ্লব’ একটি অলঙ্ঘনীয় মানদণ্ড। অন্যদিকে, জামায়াত আমিরের নাগরিক অধিকার নিয়ে দেওয়া বক্তব্যটি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বর্তমান নাগরিক অধিকারের মধ্যে যে ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক চলছে, তা এই সংসদের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও বেগবান করবে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি ব্যারিস্টার পার্থের সাথে একমত যে, আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়? কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |