প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঠাকুরগাঁও: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন সরগরম। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুর শোল্টোহরি কলকুঠি বাজারে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষে জোরালো বক্তব্য পেশ করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী আমেজে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো এখন আর কেউ নেই। তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন।"
পথসভায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চায়। কিন্তু আমাদের বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যুগ যুগ ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল যেখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলার রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব, এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন—প্রতিটি বাঁকেই এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে জিন্নাহর 'উর্দু' ঘোষণার প্রতিবাদ থেকে যে স্বাধিকার আন্দোলনের শুরু, তা ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে কাজ করছে।
১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে সর্বদা আপসহীন। ২০২৫ সালের সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করিয়ে দেন যে, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংকটে বিএনপিই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের মানুষের কাছে পাঁচটি বছর সময় চেয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য। অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তায় বারবার জোর দিচ্ছেন যে, "দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে।"
পথসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, "গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি। এখন সুযোগ এসেছে। নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন।" তিনি সতর্ক করে বলেন যে, একটি কুচক্রী মহল এখনো ষড়যন্ত্র করছে, তবে সচেতন জনতা ধানের শীষের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনী লড়াই কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লড়াই। ঠাকুরগাঁওয়ের এই পথসভা প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির ভিত্তি এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়—যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাই হবে মূল লক্ষ্য।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলো, বাসস (BSS), এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি দপ্তর।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |