| বঙ্গাব্দ

রৌমারীতে চরমোনাই পীরের জনসভা: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-01-2026 ইং
  • 2366289 বার পঠিত
রৌমারীতে চরমোনাই পীরের জনসভা: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা |
ছবির ক্যাপশন: রৌমারীতে চরমোনাই পীরের জনসভা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীরের নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ স্টাইলে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি নিচে প্রস্তুত করা হলো। এতে ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান নির্বাচনি লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।


রৌমারীতে চরমোনাই পীরের হুংকার: ‘স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের নামে ক্ষমতার বাক্স ছিনিয়ে নিয়েছে’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রৌমারী, কুড়িগ্রাম: আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় রৌমারী সিজি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বর্তমান সময়ের নির্বাচনি মেরুকরণ নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আবার আরেক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে তারা আমাদের ইসলামের নামের বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে গেল।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: ইসলামের নামে রাজনীতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলনের ইতিহাস শতাব্দীর পরিক্রমায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে এই ভূখণ্ডে যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে পীর-মাশায়েখ ও ওলামাদের বিশাল ভূমিকা ছিল।

  • ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আন্দোলনে ধর্মীয় চেতনার প্রভাব ছিল প্রবল। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষের মূল মন্ত্র ছিল শোষণমুক্তি। চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে সেই ধর্মীয় চেতনার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সময়কে বিশ্লেষণ করেন।

  • ২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৫-২৬ এর নতুন পথ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতনের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে একটি নৈতিকতা ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার সুযোগ হিসেবে। চরমোনাই পীর দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ইসলামপন্থী দল জোটের রাজনীতিতে ব্যস্ত হলেও তারা এককভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করে লড়ছেন।

‘আমরা একা নই, আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন’

নির্বাচনি জোটে না থাকা প্রসঙ্গে সমালোচকদের জবাব দিয়ে রেজাউল করিম বলেন, “অনেকে বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাকি একা হয়ে গেছে। আসলে আমরা এক নই, আমাদের সঙ্গে আল্লাহ রয়েছেন এবং দেশের সম্মানিত ওলামা মাশায়েখগণ রয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে হাতপাখা প্রতীকই হবে জনগণের আশ্রয়স্থল।”

স্থানীয় প্রার্থীর সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের দলটির প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। সমাবেশে জেলা ও উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা কুড়িগ্রামের অবহেলিত চরাঞ্চল ও নদী ভাঙন রোধে এবং মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের খিলাফত আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ঐক্য বারবার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে। রৌমারীর এই জনসভায় চরমোনাই পীরের বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের আদর্শিক ও কৌশলগত দূরত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, যা কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদদাতা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মিডিয়া সেল। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency