নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান তাঁর আগামীর কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আয়োজিত এই সভায় তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এক অভিনব ‘মডেল’ তুলে ধরেন। ১৯০০ সালের রাজনৈতিক বিবর্তন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুবকদের আত্মসম্মানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করব না। বরং তাদের এমন দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা গর্বের সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে।” এছাড়া তিনি মা-বোনদের জন্য ঘরে, বাইরে এবং কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিয়ে জামায়াত আমির এক যুগান্তকারী প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “জনগণের দেওয়া প্রতিটি টাকার হিসাব আয়নার মতো স্বচ্ছ হতে হবে। জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনগণের কাছে জমা দিতে হবে। এমনকি আমি নিজে কোনো অন্যায় করলে আমাকেও যেন ছাড় দেওয়া না হয়।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুর্নীতি দমনে ‘মামা-খালুর’ কোনো সুপারিশ বা টেলিফোন চলবে না।
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়া হবে না। বাংলাদেশকেই উন্নত চিকিৎসার উর্বর ভূমি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেন যা বেকার নয়, বরং দক্ষ নাগরিক তৈরি করবে।
[Image: Jamaat-e-Islami Ameer Dr. Shafiqur Rahman addressing an election rally in Mirpur-10, Dhaka]
ঢাকা-১৫ আসনের অন্তর্গত মিরপুর ও কাফরুল এলাকার জলাবদ্ধতা, পচা খাল, খোলা নর্দমা এবং শিশুদের খেলার মাঠের অভাবের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন, “আল্লাহ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আমানত হিসেবে দেন, তবে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।” ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে পারবে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন এই অঞ্চলে সংসদীয় রাজনীতির চর্চা শুরু হয়, তখন থেকেই জনকল্যাণের চেয়ে গোষ্ঠীস্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সেই সংস্কারপন্থী রাজনীতিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, “জোর করে ভোট নেওয়া বা যেকোনো মূল্যে জয়ী হওয়ার রাজনীতি আমরা করব না। জনগণের রায়ের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।”
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৪-এর বিপ্লবের পর জাতি যে নতুন স্বাধীনতা পেয়েছে, তা রক্ষায় জামায়াত বদ্ধপরিকর। যদি স্বৈরাচারী শক্তি আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করে, তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নির্বাচনে জয়ী না হলেও জামায়াত সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে বলে তিনি জানান।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া বিভাগ ও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬।
২. যুগান্তর অনলাইন ও প্রিন্ট আর্কাইভ (নির্বাচনী প্রচারণা বিশেষ সংখ্যা)।
৩. ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার সেল।
৪. গুগল নিউজ এনালিটিক্স (ঢাকা-১৫ আসনের রাজনৈতিক প্রবণতা)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |