নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রামের কলেজ মোড় বিজয় স্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, দেশে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম এবং আখেরাতের মুক্তির জন্য ‘হাতপাখা’ প্রতীকের কোনো বিকল্প নেই। ১৯০০ সালের রাজনৈতিক বিবর্তন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ইসলামের বিজয়ে হাতপাখাকেই একমাত্র আশার আলো হিসেবে দেখছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট) আসনের দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় চরমোনাই পীর বলেন, “ইসলামের বিজয়ের জন্য আমরা মা-বোনদের কাছে যাব, মুরুব্বিদের কাছে যাব। তাদের বুঝাব ইসলামের পক্ষে একটাই ভোটের বাক্স রয়েছে, আর সেই বাক্স হলো হাতপাখা মার্কা। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই প্রতীকেই ভোট দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়া ঈমানি দায়িত্ব।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামী অনুশাসনে যদি দেশ পরিচালনা না করবেন, তবে ২৪-এর আন্দোলনের কী দরকার ছিল? আবু সাঈদ, মুগ্ধদের প্রাণ বিসর্জনের কোনো প্রয়োজন ছিল না যদি দেশ আগের মতোই চলে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ইসলামের নীতি ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, তারা মূলত ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার এককভাবে ২৫৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, যারা ক্ষমতার লোভে আদর্শের সঙ্গে আপস করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, “ভোটের প্রকৃত বিজয় তখনই হবে, যখন ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়া হবে।”
[Image: Islami Andolan Bangladesh Ameer Mufti Syed Muhammad Rezaul Karim addressing an election rally in Kurigram town, January 2026]
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে এই জনসভায় কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নুর বখতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। কুড়িগ্রামের এই আসনটিতে হাতপাখার বিশাল কর্মী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, উত্তরবঙ্গে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের (জামায়াত সমর্থিত) পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের ‘একলা চলো’ নীতি ভোটারদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন এ অঞ্চলে ইসলামি ভাবধারার রাজনৈতিক আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে, তখন থেকেই জনগণের একটি বড় অংশ ধর্মীয় মূল্যবোধের শাসন প্রত্যাশা করে আসছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের ‘জুলাই সনদের’ বাস্তবায়ন এবং ইসলামি মূল্যবোধের রাষ্ট্র গঠনের এক অগ্নিপরীক্ষা।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিশেষ নির্বাচনী কভারেজ, ২৮-২৯ জানুয়ারি ২০২৬। ২. প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ (কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি প্রতিবেদন), জানুয়ারি ২০২৬। ৩. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় প্রচার সেল ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ৪. গুগল নিউজ এনালিটিক্স (কুড়িগ্রাম-২ আসনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জনমত সমীক্ষা)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |