প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস যেমন আন্দোলন ও ত্যাগের, তেমনি তা পারিবারিক নেতৃত্বের পরম্পরারও সাক্ষী। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব এবং ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—প্রতিটি মোড়েই নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানে যখন ১১ দলীয় জোট এবং বিএনপি নির্বাচনী ময়দানে মুখোমুখি, তখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫ সালে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা ১৯৪৭-এর দেশভাগ হয়ে ১৯৭১-এর স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। এরপর ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার সাথে ছায়ার মতো রয়েছেন তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, যাকে ঘিরে এখন আবর্তিত হচ্ছে বিএনপির আগামীর রাজনীতি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার উপস্থিতি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক লেখায় তিনি বলেন, "চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি।" বিশ্লেষকদের মতে, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি মূলত 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্ম এবং নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চায়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে বিএনপি একজন পাশ্চাত্য শিক্ষিত, আধুনিক এবং প্রগতিশীল নারী নেতৃত্বকে তুলে ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভিন্ন বার্তা দিতে চাচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন উত্তপ্ত। একদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান 'ঐক্যের সরকার' গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে পটুয়াখালী-০৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজের মুখে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই জাইমা রহমানের উপস্থিতি কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি 'নারীর হাতে জাতির নির্মাণ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য দেন। এছাড়া গত ২৫ জানুয়ারি গুলশানে তরুণদের সাথে তারেক রহমানের আলাপকালেও জাইমাকে সপ্রতিভ দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, উপমহাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নতুন কিছু নয়। নেহরু-গান্ধী বা ভূট্টো পরিবারের মতো বাংলাদেশেও জিয়া পরিবারের প্রতি তৃণমূলের এক ধরনের আবেগ রয়েছে। জাইমা রহমানকে প্রস্তুত করার মাধ্যমে বিএনপি মূলত সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকেই নিশ্চিত করতে চাইছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে আনা বিএনপির একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। তার মাধ্যমে বিএনপি নিজেকে একটি লিবারেল এবং আধুনিক দল হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা বর্তমান তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৯০০ সালে যে রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এক চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক, মাহফুজ আলমের মতো তরুণ বিপ্লবীদের স্বতন্ত্র পথচলা এবং জাইমা রহমানের মতো নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক গ্রুমিং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রথাগত ছক থেকে বেরিয়ে নতুন এক ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে।
সূত্র: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, বিএনপি মিডিয়া সেল, ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা, নুরুল হক নুরের নির্বাচনী ইশতেহার, নির্বাচন কমিশনের শোকজ নোটিশ এবং জাতীয় সংবাদপত্রের আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, সংকটকালে তরুণ নেতৃত্বই দেশকে পথ দেখিয়েছে। জাইমা রহমান বা নুরুল হক নুরের মতো তরুণদের সক্রিয়তা ইতিবাচক হলেও, পটুয়াখালীর নির্বাচনী সংঘাত এবং এনসিপি-জামায়াত জোট নিয়ে মাহফুজ আলমের সংশয় প্রমাণ করে যে মাঠের বাস্তবতা এখনো কঠিন। ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ভোট নয়, বরং এটি হবে আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |