প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে রাজধানীজুড়ে। বিশেষ করে ঢাকা-৯ (সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা) আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায় তার ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সবুজবাগের বাগপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকালে ডা. তাসনিম জারা বলেন, "স্বল্প সময়ে ফুটবল প্রতীককে পরিচিত করা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু মানুষ এখন নিজ উদ্যোগেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব জেনে নিচ্ছেন। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে মানুষ এই প্রতীককে সানন্দে গ্রহণ করেছেন।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়েই তরুণদের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররাই ছিল অগ্রসেনানী। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তরুণদের রক্ত রাজপথ রঞ্জিত করেছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে, ডা. তাসনিম জারা সেই ধারারই একজন প্রতিনিধি। ১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে ২০২৬-এর এই সংস্কারমুখী রাজনীতি—সবই যেন এক সুতোয় গাঁথা। তাসনিম জারার মতে, যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিল, সেই সংস্কার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা-৯ আসনটি মূলত মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রধান কেন্দ্র। তাসনিম জারা তার ইশতেহারে রিকশাচালক, দিনমজুর ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন:
"রিকশাচালক ও দিনমজুরদের প্রধান চাওয়া নিরাপদ পরিবেশ ও ন্যায্য আয়ের সুযোগ। আমি সংসদে গেলে এই শ্রেণির মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলব। এটি হবে অর্থ ও পেশিশক্তির বাইরের একটি সুস্থ রাজনীতি।"
নির্বাচনী কৌশল হিসেবে তাসনিম জারা প্রথাগত প্রচারণার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন। দেশ-বিদেশে থাকা তার স্বেচ্ছাসেবক টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তারা সচেতনভাবে একটি 'ক্লিন ক্যাম্পেইন' করছেন যেখানে কালো টাকার ব্যবহার নেই, আছে কেবল মানুষের ওপর ভরসা।
ঢাকা-৯ আসনে সাবেক সংসদ সদস্যদের তালিকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের দাপট ছিল দীর্ঘকাল। কিন্তু ২০২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ডা. তাসনিম জারার মতো ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের উত্থান রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। ভোটারদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে তরুণ ও নারীরা তার ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির মতো বাস্তবমুখী ইশতেহারে আকৃষ্ট হচ্ছেন। ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে চায়।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা), প্রথম আলো নির্বাচনী বিশেষ সংখ্যা এবং উইকিপিডিয়া (ঢাকা-৯ নির্বাচনী আসন ইতিহাস)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |