| বঙ্গাব্দ

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার | ধানের শীষে সমর্থন দিয়ে বিএনপির পদ ফিরে পেলেন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-02-2026 ইং
  • 2451277 বার পঠিত
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার | ধানের শীষে সমর্থন দিয়ে বিএনপির পদ ফিরে পেলেন
ছবির ক্যাপশন: অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার


স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ‘ধানের শীষে’ সমর্থন: বহিষ্কারাদেশ ফিরিয়ে নিলেন রিজভী

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে নিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অপরাধে বহিষ্কৃত হওয়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভুল স্বীকার ও পদ ফিরে পাওয়া

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ইতিপূর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে দলীয় স্বার্থে এবং ঐক্য বজায় রাখতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি এখন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার এবং তাকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে দলের হাইকমান্ড তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে তিনি এখন থেকে বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ধরনের দলত্যাগ ও ঘরে ফেরার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

  • ১৯০৫-১৯৭১: ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়ে বাঙালি রাজনীতিবিদরা আদর্শিক ও রণকৌশলগত কারণে নানা মেরুকরণ দেখেছেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনের সময়ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে এমন অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল।

  • ১৯৭৫ পরবর্তী যুগ: ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বহিষ্কারের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতন ঘটে। এই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল ‘ইনসাফ ও বৈষম্যহীনতা’। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন তাদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবং দলের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একতাবদ্ধ হতে কাজ করছে। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর এই ফিরে আসা মূলত ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ।

বক্তাদের উক্তি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

নির্বাচনী ময়দানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের ‘সুস্থ ও সমৃদ্ধ’ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার এখন তৃণমূলের মুখে মুখে। অন্যদিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার কুড়িগ্রামের জনসভায় বলেছেন, “আমরা কোনো জমিদারিতে বিশ্বাস করি না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।” এই রাজনৈতিক আবহে বিএনপির প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্রোহীদের দলে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দলটি ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবের প্রস্তুতি জোরদার করছে।


সূত্র: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রেস রিলিজ, যুগান্তর আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন তথ্যভাণ্ডার এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনী আপডেট।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির সাংগঠনিক রণকৌশল এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency