প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বনানীর হোটেল শেরাটনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ২৬টি অগ্রাধিকার সম্বলিত এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত বিবর্তন গত এক শতাব্দীতে বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের আলিম সমাজ ও সাধারণ মানুষ শিক্ষা ও স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত ৫৪ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বৈষম্য দূরীকরণ সবসময়ই প্রধান দাবি ছিল। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, তা আজ ২০২৬ সালে এসে "বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ" গড়ার ইশতেহারের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করার বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে:
ইবতেদায়ি মাদ্রাসা: দলটির ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করা হবে।
কওমি সিলেবাস: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সিলেবাস পরিমার্জন করা হবে।
নারী শিক্ষা: নারী শিক্ষার প্রসারে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে।
সুদমুক্ত শিক্ষা ঋণ: স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে ৫ বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে।
রাজনীতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে নেতাদের বক্তব্যগুলো ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে আছে:
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।" — শেখ মুজিবুর রহমান।
২০২৪: "আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে মেধার মূল্য থাকবে, বৈষম্য থাকবে না।" — জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
২০২৬ (৪ ফেব্রুয়ারি): "জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা একটি বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে চাই।" — ডা. শফিকুর রহমান।
ইশতেহারে কেবল শিক্ষা নয়, বরং আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লব এবং কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রূপরেখাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দলটির দাবি, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
১৯০০ সাল থেকে যে জনপদ সামন্তবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই বাংলাদেশের মানুষ আজ আধুনিক ও ইনসাফভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। জামায়াতের এই ইশতেহার মাদ্রাসা শিক্ষা ও নারী শিক্ষার যে রূপরেখা দিয়েছে, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষত ধর্মপ্রাণ এবং শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সাথে বাংলাদেশের ১২৬ বছরের রাজনৈতিক বিবর্তনকে যুক্ত করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা সরকারি করার প্রতিশ্রুতিটি তৃণমূল পর্যায়ে দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |