নরসিংদীতে জোটের রাজনীতিতে ধোঁয়াশা: সারোয়ার তুষারের অভিযোগ ও শতবর্ষের রাজনৈতিক বিবর্তন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নরসিংদী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও নরসিংদী-২ আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষারের একটি পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে একদল লোক জামায়াতে ইসলামীর নামে ‘গোপন মিছিল’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জোটবদ্ধ নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদ এক শতাব্দী প্রাচীন বিষয়। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত কারণে জোট ও ফ্রন্ট গঠনের প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময়ও নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা মেরুকরণ হয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বিভিন্ন আদর্শের দলগুলো এক কাতারে এসে লড়াই করেছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, তা আজ ২০২৬ সালে এসে এক সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক জোটবদ্ধ নির্বাচনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ। তবে নরসিংদীর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সারোয়ার তুষার তার পোস্টে লিখেছেন, নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের নামে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা ও মিছিল থেমে নেই। অথচ কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এবং তার হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক তুলে দিয়েছেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা না রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তুষার বলেন:
"আজকে তারা মিছিলও বের করেছে। অথচ জামায়াতের দায়িত্বশীলরা বলছেন তারা এসব ব্যাপারে অবগত নন। অদ্ভুত পরিস্থিতি! আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক জোটের পক্ষে থাকবে।"
উল্লেখ্য যে, এর আগে প্রচারণায় গিয়ে এক জামায়াতকর্মীর সঙ্গে সারোয়ার তুষারের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
রাজনীতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে নেতাদের বক্তব্যগুলো আজও ইতিহাসের মাইলফলক:
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২০২৪: "আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে দলমতের ঊর্ধ্বে ইনসাফ কায়েম হবে।" — জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
২০২৬ (৪ ফেব্রুয়ারি): "আল্লাহ উত্তম ফয়সালাকারী।" — সারোয়ার তুষার।
২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রযুক্তি ও স্যোশাল মিডিয়ার প্রভাব অনেক বেশি। ১৯০০ সালের সেই লিফলেট ও গোপন বৈঠকের যুগ পেরিয়ে আজ প্রার্থীরা ফেসবুক ও ভাইরালিটির মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। নরসিংদীর এই বিভক্তি কেবল তুষারের জন্য নয়, বরং পুরো ১০-দলীয় জোটের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের রিজার্ভ ভোট এবং জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
১৯০০ সাল থেকে যে জনপদ সামন্তবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই নরসিংদী আজ জোট রাজনীতির এক নতুন সংকট মোকাবিলা করছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় কর্মীদের কার্যক্রমের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তুষারের ‘শাপলা কলি’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কতটা ভোট পায়, তা নির্ভর করবে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতার ওপর।
সূত্র: সারোয়ার তুষারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, যুগান্তর ডিজিটাল আর্কাইভ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি।
分析: এই প্রতিবেদনটি মূলত ২০২৬ সালের একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সংকটকে বাংলাদেশের ১২৬ বছরের ঐতিহাসিক বিবর্তনের সাথে যুক্ত করেছে। এটি জোট রাজনীতির দুর্বলতা এবং তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |