নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচনের মাঠে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং ভোটারদের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার কোনো চেষ্টা করা হলে তা রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের শুরু থেকে এই ভূখণ্ডে ক্ষমতার পালাবদল ও অধিকার আদায়ের লড়াই সবসময়ই কণ্টকাকীর্ণ ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে জনআকাঙ্ক্ষা দমনে শক্তির ব্যবহার দেখা গেছে। ২০০৮ সালের পর থেকে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসিফ মাহমুদ যে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন, তা মূলত গত এক শতাব্দীর গণতান্ত্রিক সংগ্রামেরই এক ধারাবাহিক প্রেক্ষাপট। তিনি মনে করেন, ১৯০০ সালের সেই স্বাধীনচেতা মানসিকতা আজ ২০২৬-এ এসেও হুমকির মুখে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা না যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, "নির্বাচনের মাঠে বেশ কিছু জায়গায় অস্ত্রের মজুত হচ্ছে এবং প্রার্থীরা উঠান বৈঠকে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।" তিনি অবিলম্বে এই অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
বিএনপিকে লক্ষ্য করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়লাভ করলেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন করবে না—এমন আশঙ্কা প্রবল। বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরও তাদের ইশতেহারে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি বিগত ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং ইশতেহার উপকমিটির সেক্রেটারি ইস্তিয়াক আকিব বক্তব্য রাখেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে কোনো দল বা গোষ্ঠী যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা সাফ জানিয়ে দেন, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করলে এনসিপি রাজপথ ছাড়বে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে কেন্দ্র করে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান ও অভিযোগ দেশের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: এনসিপি সংবাদ সম্মেলন, নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক ও ত্রয়োদশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিম।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আদর্শিক সংঘাতকে চিত্রিত করেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা কোন দিকে যাবে, আসিফ মাহমুদের বক্তব্য তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |