প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের পাতানো নির্বাচন হলে তা জামায়াত মেনে নেবে না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১১টার দিকে ইইউ’র ১৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ‘থ্রেড’ আছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চায়। বৈঠক শেষে জুবায়ের জানান, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, "প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি অংশ পক্ষপাতিত্ব করছে। এখান থেকে বের হয়ে না এলে জামায়াত কঠোর অবস্থান জানাবে।" তিনি নির্বাচন কমিশনকেও (ইসি) তুলনামূলক দুর্বল বলে অভিহিত করেন।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত দেশের ১৫টি নির্বাচনি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং জামায়াতের কার্যক্রমে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের নিস্পৃহতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "জনমনে আতঙ্ক দূর করতে দ্রুত অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।" তিনি আরও জানান, ইইউ ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ আরও কয়েকটি বিদেশি পর্যবেক্ষক দল জামায়াত কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনের ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল মূলত ঔপনিবেশিক স্বার্থ রক্ষা করা। তবে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে জনগণের প্রবল আকাঙ্ক্ষার চাপে তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছিল।
১৯৭০: পাকিস্তানের অধীনে ঐতিহাসিক ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রশাসনের একাংশের অসহযোগিতা সত্ত্বেও জনগণের রায়ের জয় হয়েছিল।
১৯৯৬ ও ২০২৪: ১৯৯৬ সালে ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল প্রশাসনের দলীয়করণমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়া।
২০২৬: বর্তমান ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা সেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংগ্রামের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জামায়াত নেতাদের মতে, চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে যদি প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করে, তবে তা হবে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
আজ প্রচারণার শেষ দিনে সারা দেশের চিত্র ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
তারেক রহমান: ১৯ দিনের দীর্ঘ প্রচারণা শেষ করে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন এবং ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল: তিনি জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই সমাজ ব্যবস্থায় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি হবে।
সারজিস আলম: পঞ্চগড়ে হুঙ্কার দিয়েছেন যে, জীবন দিয়ে হলেও ভোট চুরি ঠেকানো হবে।
ইসি সচিব: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর প্রশাসনের ওপর অনাস্থা ২০২৬ সালের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সরাসরি মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে প্রশাসনের সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বড় সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সংবাদ সম্মেলন (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং যুগান্তর অনলাইন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |