একমাত্র স্বাধীনতার জন্য এক অগণিত ত্যাগ, সংগ্রাম এবং রক্তপাতের গল্প—এটাই ১৯৭১ সালের মার্চ মাস। পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলার মুক্তিকামী জনগণের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয় এবং এক শোকাবহ ইতিহাস রচিত হয়, যা বাঙালি জাতির মুক্তির পথে এক মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মার্চের প্রথম দিনগুলোতেই বাঙালি জাতি বোধ করতে শুরু করে যে, তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতা প্রায় সবার জন্য এক অসাধ্য। স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন ও প্রতিবাদগুলো দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকে। ২৫ মার্চ, ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সেনারা ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে, যেখানে বাঙালি জনগণের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ২৫ মার্চ রাতের সেই কালরাত, যখন হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙালি নিহত হয়, তা বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হয়ে থাকে। সেদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, অগণিত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং নারীদের ওপর চলে ধর্ষণ ও নির্যাতন।
তবে, বাঙালি জাতি হাল ছাড়েনি। সেই মুহূর্ত থেকেই মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামে বাঙালি জনগণ পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্বাধীনতার জন্য লাখো মানুষ নিজের প্রাণ দিয়ে, অসীম সাহসের সঙ্গে লড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পুড়ে যাওয়া সেই বাঙালি হৃদয়, প্রতিটি শহর-গ্রামের গলি, প্রতিটি ক্ষতবিক্ষত জনপদ—সবই ছিল সংগ্রামের ক্ষেত্র, যেখানে জীবনের চেয়েও বড় ছিল স্বাধীনতা।
৯ মাসের ঐতিহাসিক সংগ্রামের পর, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয় অর্জিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনী নিজেদের আত্মসমর্পণ করে এবং বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে স্বাধীন একটি দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়— বাংলাদেশ। কিন্তু, এই স্বাধীনতার পেছনে যে ভয়াবহ শোক ছিল, তা ছিল অতুলনীয়। ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম—এটাই ছিল বাঙালি জাতির সংগ্রামের চূড়ান্ত ত্যাগ।
আজকের বাংলাদেশ, তার অগ্রগতি, তার উন্নতি—সবই গড়া হয়েছে এই সংগ্রামের ভিতের ওপর। স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছিল এক হৃদয়বিদারক যন্ত্রণা, অগণিত জীবনের মূল্যবান আত্মত্যাগ। এই যাত্রায় কেবল একটি দেশ নয়, বরং একটি জাতি তার সত্যিকারের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। একাত্তরের এই ভয়াবহ দিনগুলোর মাঝে, যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, তা আজও আমাদের মনে প্রতিধ্বনিত হয়।
প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের, যারা আমাদের জন্য জীবন দিয়েছে, যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাদের ত্যাগের ফলেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়ে আছি। এই স্বাধীনতার মূল্য, এই সংগ্রামের ইতিহাস, আমাদের চিরকাল স্মরণ রাখতে হবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারা জানে, স্বাধীনতা কি এবং এর মূল্য কত বড়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |